আর মাত্র এক দিন পরই শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের মহোৎসব। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে পর্দা উঠবে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ক্রীড়া আসরের।
বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকো এই আয়োজনকে নির্বিঘ্ন ও স্মরণীয় করতে নিয়েছে একাধিক বিশেষ উদ্যোগ। রাজধানী মেক্সিকো সিটির সব সরকারি কর্মচারীকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ দর্শক ও ফুটবলপ্রেমীর আগমন ঘটবে মেক্সিকোয়। তাদের যাতায়াত সহজ করা, যানজট কমানো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।
আগামীকাল মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ। এই ম্যাচকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, মেক্সিকো সিটিতে অবস্থিত সব প্রাদেশিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা আপাতত বাসা থেকে দাপ্তরিক কাজ করবেন। তবে স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, জরুরি অবকাঠামো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো এই সিদ্ধান্তের আওতার বাইরে থাকবে।
এদিকে প্রাক-প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। যদিও অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট সংস্থাগুলোকেও কর্মীদের জন্য বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ অংশ নিচ্ছে এই টুর্নামেন্টে। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর স্কোয়াডে রয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোট ১ হাজার ২৪৮ জন ফুটবলার।
তিন দেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপে মেক্সিকোর মাটিতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও হাইভোল্টেজ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এসব ম্যাচ সফলভাবে আয়োজন করতে ইতোমধ্যে দেশটির প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
/এএসএফ