• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৭ পিএম


বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকায় ধসে পড়তে পারে ৭২ হাজার ভবন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৮ জুন ২০২৬ ১০:২৪ পিএম

ফিলিপাইন ও আশপাশের অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর বাংলাদেশেও সম্ভাব্য বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভূতত্ত্ববিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, দেশের বিভিন্ন ভূ-ফাটলে দীর্ঘদিন ধরে শক্তি সঞ্চিত হয়ে থাকায় ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ এমন একটি ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে ৮ মাত্রারও বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ডাউকি ফল্টসহ দেশের বিভিন্ন সক্রিয় ভূ-চ্যুতিতে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা শক্তি বড় ধরনের কম্পনের কারণ হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অবজারভেটরির সাবেক পরিচালক ও ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, সিলেট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত পাহাড়ি অঞ্চলের নিচে বিপুল পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত রয়েছে। তার মতে, ওই এলাকায় ৮ মাত্রার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটতে পারে।

তার গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় ঢাকার মাত্র ১ শতাংশ ভবন ধসে পড়লেও প্রায় ৬ হাজার ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এতে প্রায় ৩ লাখ মানুষ সরাসরি হতাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে আগে পরিচালিত গবেষণাগুলোও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ২০০৯ সালে জাইকা ও সিডিএমপির যৌথ জরিপে বলা হয়েছিল, ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে। একই সঙ্গে এক লাখের বেশি ভবন বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করা, দুর্বল নির্মাণব্যবস্থা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতির ঘাটতি বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, রাজধানী ঢাকার মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ ভবন ভূমিকম্প সহনশীল। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ভবনগুলোকে ভূমিকম্প সহনশীল করে গড়ে তোলা গেলে সম্ভাব্য প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই হবে না, এর পাশাপাশি নিয়মিত মহড়া, উদ্ধার কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তারা মনে করেন, আধুনিক ও স্মার্ট সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু করা এবং স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ভূমিকম্প বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা গেলে সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয়ের মাত্রা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

তাদের ভাষ্য, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করার কোনো উপায় নেই। তবে কার্যকর প্রস্তুতি, সচেতনতা এবং ঝুঁকি হ্রাসমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

/এসএন