• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩০ এএম


এআই ট্রাফিক নজরদারি ফাঁ/কি দিতে নম্বরপ্লেট ঢেকে চলা যুবক গ্রেফ/তার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২ জুন ২০২৬ ৫:০৫ পিএম

রাজধানীর সড়কে এআইভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট ঢেকে চলাচল করছিলেন লাবলু হক (৩৮) নামের এক ব্যক্তি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচিত এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ছবি ও ভিডিওর সূত্র ধরে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তদন্ত চালানো হয়। তদন্ত শেষে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করলে তাকে এক মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (২ জুন) ডিএমপির আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রথমে ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসে। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে।

তিনি বলেন, রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার চলমান প্রচেষ্টার মধ্যে এমন ঘটনা উদ্বেগজনক। কারণ একজন ব্যক্তি যদি আইন ফাঁকি দিতে সক্ষম হন, তাহলে অন্যরাও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হতে পারেন। এ কারণে দ্রুত তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভাইরাল হওয়া ছবিতে মোটরসাইকেল আরোহীর মুখ পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছিল না। ফলে তদন্তকারীদের জন্য কাজটি ছিল বেশ জটিল। তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেন। একই ধরনের মোটরসাইকেল শনাক্ত করার পাশাপাশি আংশিক দৃশ্যমান নম্বরপ্লেটের তথ্যের সঙ্গে সম্ভাব্য মোটরসাইকেলের নম্বর মিলিয়ে দেখা হয়।

তদন্তে শনাক্ত হওয়া লাবলু হক পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুল হক এবং মায়ের নাম আনোয়ারা বেগম। দীর্ঘ অনুসন্ধান, তথ্য বিশ্লেষণ এবং যাচাই-বাছাই শেষে সোমবার তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের উপকমিশনার রাকিব হোসেন তদন্তের বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, প্রায় সাত দিন আগে ঘটনাটি তাদের নজরে আসে। তবে ভাইরাল হওয়া ছবিটি কোথায় এবং কখন তোলা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে তদন্ত অনেকটাই অনুমানের ভিত্তিতে শুরু করতে হয়।

তিনি জানান, বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা ধারণা করেন, রাজধানীর সাতরাস্তা মোড়ের বিজি প্রেসসংলগ্ন এলাকায় ছবিটি তোলা হয়েছিল। এরপর ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। যেহেতু নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট ইচ্ছাকৃতভাবে ঢেকে রাখা হয়েছিল, তাই সম্ভাব্য বিভিন্ন নম্বরের সমন্বয় ধরে অনুসন্ধান চালাতে হয়েছে।

তদন্তকারীরা মোটরসাইকেলের রং, মডেল এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য যানবাহনের একটি তালিকা তৈরি করেন। এরপর তালিকাভুক্ত মোটরসাইকেলের মালিকদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এমনকি ঈদের ছুটির মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন ঠিকানায় গিয়ে তথ্য যাচাই করেছেন। ধাপে ধাপে সম্ভাব্য মোটরসাইকেলের সংখ্যা কমিয়ে এনে শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি মোটরসাইকেল নিয়ে বিশদ অনুসন্ধান চালানো হয়। সেই ধারাবাহিক তদন্তের ফলেই অভিযুক্ত লাবলু হককে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

/এসএন