১৩ বছরের একটি মেয়ে। শারীরিক জটিলতার কারণে ঠিকভাবে প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে না। বারবার জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়। লজ্জা আর মানসিক যন্ত্রণায় স্কুলেও যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে তার।
এই শিশুটির নাম পূজা দাস।
তার শরীরজুড়ে এখনো রয়ে গেছে নির্যাতনের অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন।
ঘটনাটি ২০১৬ সালের ১৮ অক্টোবরের। দিনাজপুরের পার্বতীপুরে তখন পূজার বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর। অন্য শিশুদের মতোই খেলাধুলা আর হাসিখুশি দিন কাটছিল তার।
সেদিন দুপুরে খেলতে খেলতেই প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম তাকে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যায়। পরে শিশুটির ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতনের পর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় এবং মৃত ভেবে তাকে একটি হলুদের ক্ষেতে ফেলে রেখে যাওয়া হয়।
সারারাত মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে পূজার বাবা সবল চন্দ্র দাস থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন সন্ধ্যায় স্থানীয়রা হলুদের ক্ষেত থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন শিশুটিকে।
দীর্ঘ চিকিৎসা ও একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি পূজা। পরিবার জানায়, গুরুতর শারীরিক ক্ষতির কারণে এখনও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে না সে।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। অপর এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
তবে ২০২৫ সালে প্রায় সাড়ে আট বছর কারাভোগের পর আসামির জামিন হওয়ায় এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে সমালোচনার মুখে জামিন স্থগিত করা হলেও অভিযুক্ত পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
পূজার বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিচার তো পাইছিলাম, তাইলে এমন হইল ক্যানে? যাবজ্জীবনের আসামি ছাড়া পাইল ক্যানে?”
ঘটনাটি নতুন করে দেশের বিচারব্যবস্থা, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিচার এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, শুধু রায় দিলেই বিচার সম্পূর্ণ হয় না; ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
/এএসএফ