• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৬ এএম


ডোনাল্ড লুর চাপে ইমরান খানকে সরানো হয়েছিল, দাবি ফাঁ’স হওয়া ‘সাইফার’ এ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৯ মে ২০২৬ ৯:৩১ পিএম

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রায় চার বছর পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি গোপন কূটনৈতিক বার্তা বা ‘সাইফার’। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী সংস্থা ‘ড্রপ সাইট’ সম্প্রতি ওই নথি প্রকাশ করেছে, যেখানে ইমরান খানের অপসারণের পেছনে ওয়াশিংটনের ভূমিকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

পাকিস্তানে কূটনৈতিক তারবার্তাকে সাধারণত ‘সাইফার’ বলা হয়। প্রকাশিত এই নথিতে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডোনাল্ড লুর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।

‘কেবল আই-০৬৭৮’ নামে পরিচিত ওই নথির তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ায় ওয়াশিংটনের অসন্তোষের মুখে পড়েছিলেন ইমরান খান। বার্তায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তার এই পররাষ্ট্রনীতিই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করেছিল।

২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ তার প্রায় এক মাস আগেই ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে নথিতে।

এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস এবং ইকোনমিক টাইমসসহ ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাঁস হওয়া তারবার্তায় ডোনাল্ড লুর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, “আমার মতে, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের ভোট সফল হলে ওয়াশিংটন সব কিছু ক্ষমা করে দেবে।”

ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন, তার সরকারকে হটানোর পেছনে বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিল। তিনি বারবার দাবি করেছেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখা এবং রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে একমত না হওয়ায় তাকে ক্ষমতা হারাতে হয়েছে।

তবে ওয়াশিংটন বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইমরান খানের অভিযোগের পক্ষে কখনোই বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং এসব দাবির কোনো সত্যতা নেই।

২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন ইমরান খান। পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী এভাবে অনাস্থা ভোটে অপসারিত হন।

পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।

এদিকে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ওপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি দলটি। এমনকি তাদের পরিচিত ‘ক্রিকেট ব্যাট’ প্রতীকও নিষিদ্ধ করা হয়। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হলেও অনেক সদস্যের সংসদীয় নিবন্ধন হয়নি।

/এসএন