রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দালালের খপ্পরে পড়ে মিনহাজ নামের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে শিশুটির মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। পরে বাবার কোলেই মারা যায় মিনহাজ।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে ঢামেক হাসপাতালে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এনায়েত করিম নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি ঢামেক হাসপাতালের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া একজন অফিস সহকারী বলে জানা গেছে।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিনহাজ দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর থেকে ঢাকায় আনা হয়। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এনায়েত করিম হাসপাতালের শয্যা খালি হলে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে ততদিন কাঁটাবন এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা খরচে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে রোগীকে বের করে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার উদ্দেশ্যে মিনহাজের মুখের অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলেন এনায়েত। এরপর অক্সিজেন ছাড়াই প্রায় ২০ মিনিট শিশুটিকে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে ঘোরাঘুরি করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, পরে ঢামেক হাসপাতালের ২ নম্বর ভবনের গেট দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় তারা বুঝতে পারেন, মিনহাজ আর বেঁচে নেই।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এনায়েত করিমের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের অভিযোগ ছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের সার্টিফিকেট দেওয়ার নামে অর্থ দাবি করার অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। তবে বরখাস্ত হওয়ার পরও তিনি হাসপাতাল এলাকায় দালালি ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঢামেক হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপকে কেন্দ্র করে হাসপাতালজুড়ে প্রায় অর্ধশত দালাল সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে আইসিইউ প্রয়োজন এমন গুরুতর রোগীদের টার্গেট করে তারা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায়।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন সময় অভিযান চালালেও এই দালালচক্রের মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।
/এসএন