• ঢাকা
  • রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৯ এএম


শিক্ষার সব স্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২ মে ২০২৬ ১১:৩৪ পিএম

বর্তমান প্রজন্ম নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও আত্মিক শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে—এমন মন্তব্য করে বক্তারা বলেছেন, একটি সুস্থ ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয় অত্যন্ত প্রয়োজন।

শনিবার (২ মে) বিকেলে রাজধানীর শিশু কল্যাণ পরিষদের কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলা হয়। শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবিতে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

সেভ দ্য উম্মাহ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও আরজাবাদ মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়ার সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মাসরুর আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় বিভিন্ন শিক্ষাবিদ, আলেম ও বিশিষ্টজন বক্তব্য দেন।

বক্তাদের মধ্যে ছিলেন দেওনার পীর অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, দ্বীনিয়াত বাংলাদেশের প্রধান মুফতি সালমান আহমদ, মারকাজুল উলুম লন্ডনের প্রিন্সিপাল মুফতি শোয়াইব আহমদ, কবি ও কলামিস্ট রেজাউল করিম রনি, মাওলানা মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল ফারুক, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মুফতি তানজিল আমির, মুফতি সাইফুদ্দীন ইউসুফ, মুফতি মামুন আব্দুল্লাহ কাসেমী, মাওলানা আবদুল্লাহ আল মাসউদ খান ও মাওলানা আহমদ মুসা প্রমুখ।

অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে—প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত—ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। তার মতে, ধর্মীয় শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও মানবিকতার বিকাশ ঘটায় এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভূতি জাগ্রত করে, যা একজন আদর্শ নাগরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা তরুণদের মাদক, অপরাধ ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি এটি তাদের দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ইতিবাচকভাবে সম্পৃক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করবে।

আলোচনায় বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। শিক্ষা কারিকুলামে ধর্মীয় শিক্ষাকে সীমিত করে ‘ইসলাম শিক্ষা’ বিষয়টিকে ঐচ্ছিক বা চতুর্থ বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

তারা বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার সব স্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা জরুরি। ঘরে ঘরে পবিত্র কুরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং ছোটবেলা থেকেই শিশুদের নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এতে তারা ভবিষ্যতে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং একটি সুন্দর ও উন্নত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি নতুন নয়। অতীতে নির্বাচনের সময় আলেমরা বৃহত্তর স্বার্থে বিএনপিকে সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং সেই প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

শেষে বক্তারা শিক্ষানীতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে প্রতিটি স্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।