• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৩ এএম


স্কুল ফিডিং প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

নিম্নমানের খাবারে অসুস্থ শিক্ষার্থীরা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫৩ পিএম

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে চালু করা ‘স্কুল ফিডিং’ বা মিডডে মিল কর্মসূচিতে অনিয়ম ও নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় পচা ও অপুষ্টিকর খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনা বাড়ছে, যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে।

২২ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা-এর শংকরবাটি ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিডডে মিলের খাবার খেয়ে অন্তত ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। খাবারের তালিকায় ছিল পাউরুটি, দুধ, কলা ও ডিম। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বমি, পেটব্যথা ও চোখে জ্বালাপোড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার সরবরাহ করছিল। বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করে এবং সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে মাদারীপুর সদর উপজেলা-সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। পিরোজপুরের নেছারাবাদ, ঝালকাঠির নলছিটি, বরগুনার তালতলী এবং আনোয়ারা উপজেলা-তেও নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও পচা কলা, কোথাও ছোট ও নিম্নমানের ডিম, আবার কোথাও নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী খাবার দেওয়া হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, এসব খাবারে কোনো নির্দিষ্ট প্যাকেজিং বা চিহ্ন না থাকায় অপব্যবহার ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ খাবার বাইরে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

শনিবার নরসিংদী-তে একটি বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ মিডডে মিলের খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ত্রুটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ১৫০টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং সারা দেশে তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আছে। অনিয়মের অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং মান নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সংস্থার পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, প্রায় ২৮ লাখ শিক্ষার্থীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা।

স্কুল ফিডিং প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ বলেন, অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এত বড় কর্মসূচিতে কিছু ত্রুটি ঘটতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগারের অভাব, সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং তদারকির ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই প্রকল্প জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।