• ঢাকা
  • রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪০ এএম


নোয়াখালী সরকারি কলেজে হামলা: ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার, সভাপতির পদ স্থগিত

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ৬:৩৬ পিএম

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের ওপর হামলা, হত্যার হুমকি ও অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তিন নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল ও সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে এবং সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, শিক্ষকদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং ছাত্রদল এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সমর্থন করে না।

এর আগে বুধবার দুপুরে কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। কলেজ প্রশাসন ও ভুক্তভোগী শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাকির হোসেন সস্ত্রীক দাপ্তরিক কাজে কলেজে এলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক এবিএম ছানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষক একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে বসেন। এ সময় সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে একদল ছাত্রদল নেতা-কর্মী অতর্কিতভাবে সেখানে হামলা চালায়।

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে, শিক্ষকদের খাবার খেতে বাধা দেয় এবং প্লেট ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলে। পাশাপাশি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনার পর শিক্ষক পরিষদ জরুরি সভা করে কর্মবিরতিসহ ছয় দফা দাবি ঘোষণা করেছে। দাবির মধ্যে রয়েছে হামলাকারীদের ছাত্রত্ব বাতিল, কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রদল নেতাদের কাছে অভিযোগ দায়ের, থানায় মামলা এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি। বর্তমানে কলেজের শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন। শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েল বলেন, এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলন ছাড়া তাঁদের আর কোনো পথ খোলা নেই।

তবে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আক্তারুজ্জামান বিশাল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, শিক্ষকরাই নিজেরা কার্যালয়ে ভাঙচুর করে ছাত্রদলের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাল্টা মানববন্ধনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

নোয়াখালী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক এবিএম ছানা উল্লাহ বলেন, তাঁর কক্ষে ভাঙচুর করা হয়েছে এবং তাঁকে খাবার খেতেও দেওয়া হয়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন আচরণ একজন শিক্ষক হিসেবে কল্পনাও করতে পারেননি। অন্যদিকে সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি শোনা গেছে এবং কলেজ প্রশাসনের অনুরোধে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।