• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৯ এএম


ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: আধিপত্যের লড়াইয়ে বাড়ছে অস্থিরতা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ৩:১৭ পিএম

ঢাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও উত্তেজনা নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। সর্বশেষ শাহবাগ এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় শুধু শিক্ষার্থী নয়, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হয়েছেন, যা পরিস্থিতির গুরুতর দিক তুলে ধরছে। এর আগে চট্টগ্রামের একটি কলেজে ‘গুপ্ত’ শব্দ নিয়ে গ্রাফিতি বিতর্ককে কেন্দ্র করেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, যেখানে বেশ কয়েকজন আহত হন।

এই সংঘাতের পেছনে উভয় সংগঠনই একে অপরকে দায়ী করছে। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব অভিযোগ করেছেন, ছাত্রশিবির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে কৌশলে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে শিবির সভাপতি নূরুল ইসলাম দাবি করেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর ছাত্রদল এখন ক্যাম্পাসে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘাত সৃষ্টি করছে। এই পারস্পরিক অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংকট মূলত আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ের ফল। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের বিজয়ের মাধ্যমে তাদের প্রভাব বাড়ে। পরে বিএনপি সরকার গঠনের পর ছাত্রদলও সেই প্রভাব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ক্ষমতার দ্বন্দ্বই এখন সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ পরিচয়ের আড়ালে কে আসলে নিয়ন্ত্রণ করছে—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এই সংঘাতের বড় একটি কারণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি একটি ভুয়া ফটোকার্ডকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হলেও ততক্ষণে সহিংসতা ঘটে যায়। এতে বোঝা যাচ্ছে, অনলাইন অপপ্রচার বাস্তব সংঘর্ষে রূপ নিতে কতটা ভূমিকা রাখছে। উভয় সংগঠনই একে অপরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্রচারণা ও প্রোপাগান্ডার অভিযোগ তুলছে।

সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ছাত্রসংগঠনগুলো যতদিন জাতীয় রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন হিসেবে থাকবে, ততদিন এই ধরনের সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। শিক্ষাঙ্গনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ, নিরপেক্ষতা এবং কঠোর নজরদারি এখন অত্যন্ত জরুরি।