দিনভর কাজের চাপ আর ব্যস্ততার কারণে আমরা অনেক সময় শরীরের ছোটখাটো সমস্যাগুলোকে অবহেলা করি। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও যদি ক্লান্তি না কাটে বা রাতে ঠিকমতো ঘুম না আসে, তবে সেটি ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। বর্তমানে রোদে কম থাকা ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেকেই এই সমস্যায় ভুগছেন।
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির একটি সাধারণ লক্ষণ হলো সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভব করা। যথেষ্ট বিশ্রাম নেওয়ার পরও শরীর অবসন্ন লাগে। পাশাপাশি কোনো কারণ ছাড়াই পেশি ও হাড়ে ব্যথা হতে পারে—বিশেষ করে কোমর, উরু বা জয়েন্টে। শরীর নাড়াচাড়া করতেও কষ্ট হয়।
এছাড়া মানসিক পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে। অকারণে খিটখিটে মেজাজ, কাজের প্রতি অনাগ্রহ বা হালকা অবসাদ অনুভব করা—এসবও ভিটামিন ডি-এর অভাবের লক্ষণ। একই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া এবং অতিরিক্ত চুল পড়াও এ সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
যারা বেশি সময় ঘরের ভেতরে থাকেন বা শরীরে রোদ লাগে না, তাদের ঝুঁকি বেশি। এছাড়া বয়স্ক মানুষ ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রেও ভিটামিন ডি তৈরির প্রক্রিয়া তুলনামূলক ধীর হয়ে যায়।
এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সাধারণ একটি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই ভিটামিন ডি-এর মাত্রা জানা যায়। প্রতিদিন কিছু সময় রোদে থাকা এবং খাদ্যতালিকায় মাছ, ডিম ও দুধজাত খাবার রাখলে এই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব। ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সূত্র : এবিপি