• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম


বিমানবন্দর থেকে সাভার, বাড্ডা থেকে ভুলতা—ঢাকায় মনোরেলের পাঁচ রুটের প্রস্তাব

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৬ নভেম্বর ২০২৬ ১০:১৫ পিএম


রাজধানী ঢাকায় ২০৩০ সালের মধ্যে দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে প্রস্তাবিত রুটগুলোর বিস্তারিত নকশা তৈরির কাজ চলছে।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত মনোরেল ব্যবস্থা রাজধানীর গণপরিবহন নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করতে সহায়তা করবে। পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও দক্ষ পরিবহনব্যবস্থা হিসেবে এটি যাত্রীদের চলাচল সহজ করবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় যাত্রীদের চাপ বেশি, সেসব স্থানে যাতায়াতের সুবিধা বাড়বে।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত মনোরেল রুটগুলোর সঙ্গে বর্তমানে চালু এবং ভবিষ্যতে নির্মাণের পরিকল্পনায় থাকা মেট্রোরেলসহ অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থার সংযোগ স্থাপনের সুযোগ রাখা হবে। বিশেষ করে মেট্রোরেলে যাতায়াতকারী যাত্রীদের গন্তব্যের শেষ অংশে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এসব সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পরামর্শকেরা ইতোমধ্যে প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এখন মনোরেল রুটগুলোর বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত দুটি রুট চূড়ান্ত করা হবে। এ ক্ষেত্রে যাত্রীদের চাহিদা, সম্ভাব্য সুফল এবং আর্থিক বাস্তবতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ডিটিসিএ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলের মডেলভিত্তিক সমীক্ষা পরিচালনা করে সম্ভাব্য যাত্রী চাহিদার তথ্য সংগ্রহ করেছে। পরে এসব তথ্য বিশ্লেষণের জন্য বুয়েটের পরামর্শকদের কাছে দেওয়া হয় বলে জানান ড. মশিউর রহমান।

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর অঞ্চলের গণপরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে মনোরেল রুটের সমন্বয় এবং এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ডিটিসিএ ‘কনসালট্যান্সি সার্ভিস ফর প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি অব মনোরেল অ্যালাইনমেন্ট ইন্টিগ্রেশন উইথ মাস ট্রানজিট নেটওয়ার্কস ইন ঢাকা মেট্রোপলিটন রিজিয়ন’ শীর্ষক পরামর্শক চুক্তি করেছে।

বুয়েটের ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন (বিআরটিসি) এরই মধ্যে প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিস্তারিত নকশা জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং প্রস্তাবিত দুটি মনোরেল রুটের বিস্তারিত নকশা তৈরির জন্য সরকারি রাজস্ব বাজেট থেকে ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এই সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো ঢাকায় মনোরেলভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই করা। পাশাপাশি বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন মেট্রোরেলসহ অন্যান্য গণপরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে মনোরেলের কার্যকর সংযোগ স্থাপনের উপায় নির্ধারণ করাও এর লক্ষ্য।

হালনাগাদ সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (আরএসটিপি) প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাঁচটি মনোরেল রুটের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মধ্যে একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রুট আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন এবং পুরো সমীক্ষা ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গণপরিবহন ব্যবস্থার এমআরটি লাইনগুলোতে যেসব এলাকায় বাসের ফিডার সার্ভিস চালুর সুযোগ সীমিত, সেসব এলাকার প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি রুট চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে—পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি হয়ে বিমানবন্দর-বসুন্ধরা, যার দৈর্ঘ্য ২৫ দশমিক ২ কিলোমিটার; মধ্য বাড্ডা-ভুলতা, ১৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার; রামপুরা-ডেমরা, ১০ দশমিক ৩ কিলোমিটার; মোহাম্মদপুর-পোস্তগোলা, ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার এবং উত্তরা সেন্টার হয়ে বিমানবন্দর-সাভার, ১৭ দশমিক ৬ কিলোমিটার।

এ ছাড়া প্রস্তাবে আরও কয়েকটি মনোরেল রুটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে কামরাঙ্গীরচর পর্যন্ত ৯টি স্টেশনসহ মনোরেল-৮, আলুব্দী থেকে পশ্চিম আগারগাঁও অথবা শ্যামলী পর্যন্ত ১০টি স্টেশনসহ মনোরেল-১০ এবং পল্টন থেকে সদরঘাট অথবা ঝিলমিল পর্যন্ত ৬ বা ১১টি স্টেশনসহ মনোরেল-১৩ রয়েছে।

বুয়েটের এক পরামর্শক জানান, ঢাকা মহানগর এলাকার জন্য প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার দায়িত্ব পাওয়ার পর তারা বিভিন্ন এলাকার জনসংখ্যা, প্রস্তাবিত স্টেশনগুলোর সম্ভাব্য যাত্রী আকর্ষণের এলাকা, গণপরিবহন সেবার অপ্রাপ্যতা, যানজটপ্রবণ অঞ্চল, ডিপো নির্মাণের জন্য জমির প্রাপ্যতা এবং ভবিষ্যতে প্রকল্প সম্প্রসারণের সুযোগ পর্যালোচনা করেছেন।

ওই পরামর্শক বলেন, প্রস্তাবিত মনোরেল ব্যবস্থা রাজধানীতে সমন্বিত, দক্ষ ও টেকসই গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এই সমীক্ষায় মনোরেল রুটের অবস্থান, সম্ভাব্য স্টেশন ও ডিপোর স্থান, যাত্রী চাহিদা, কারিগরি ও কাঠামোগত উপযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা এবং পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে।

মনোরেল এমন একটি পরিবহনব্যবস্থা, যা উড়াল কাঠামোর ওপর দিয়ে চলাচল করে। ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সড়কের জায়গা সীমিত। এ ছাড়া অবকাঠামোগত বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রচলিত গণপরিবহনের অবকাঠামো নির্মাণ কঠিন হতে পারে। এসব এলাকায় মনোরেল কতটা কার্যকর হবে, তা যাচাই করছে ডিটিসিএ।

সমীক্ষার আওতায় নির্মাণ ব্যয়, যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা, পরিচালন ব্যয় এবং প্রস্তাবিত ব্যবস্থার সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক যৌক্তিকতাও বিশ্লেষণ করা হবে। এ কাজে দেশীয় ও প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।

রাজধানীর যানজট কমানো এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঢাকায় মনোরেল চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেও এ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

/এসএন