• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৮ এএম


অক্টোবর-নভেম্বরে এলএনজি সরবরাহে ঘাটতি হবে না: পেট্রোবাংলা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪৪ পিএম

অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে কোনো ঘাটতি হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। চাহিদা বিবেচনায় আগামী দুই মাসের জন্য মোট ১৯ কার্গো এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরে ১০ এবং নভেম্বরে ৯ কার্গো এলএনজি দেশে আসবে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বাসসকে বলেন, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এলএনজিবাহী কার্গো নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। চাহিদা অনুযায়ী মোট ১৯ কার্গো এলএনজি নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা গ্যাস নিয়েও কোনো সমস্যা হবে না।

তিনি বলেন, প্রতি মাসে ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী তিন মাসের জন্য প্রয়োজনীয় এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর ফলে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা থাকবে না।

পেট্রোবাংলা ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) সূত্র জানায়, অক্টোবরের জন্য নির্ধারিত ১০ কার্গোর মধ্যে স্পট মার্কেট থেকে ৩ কার্গো এলএনজি আনা হবে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আসবে ২ কার্গো এবং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় আসবে ৫ কার্গো।

নভেম্বরে দেশে আসবে আরও ৯ কার্গো এলএনজি। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ৬ কার্গো এবং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ৩ কার্গো আমদানি করা হবে। এসব কার্গো যুক্তরাষ্ট্র, নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কেনা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) মিজানুর রহমান জানান, অক্টোবর ও নভেম্বরের জন্য মোট ১৯ কার্গো এলএনজি নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব এলএনজি যুক্তরাষ্ট্র, নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে কেনা হয়েছে।

তিনি বলেন, নিশ্চিত হওয়া কার্গোগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি রয়েছে। পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও কার্গো কেনা হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী আমদানি নিশ্চিত হওয়ায় আগামী কয়েক মাস এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কার্গোগুলো দেশে পৌঁছানোর পর সেগুলো এলএনজি টার্মিনালে নেওয়া হবে। সেখানে এলএনজিকে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

আরপিজিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি কার্গোতে প্রায় ৩২ লাখ মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজি থাকে। সেই হিসাবে অক্টোবর ও নভেম্বরের ১৯ কার্গোতে মোট প্রায় ৬ কোটি ৮ লাখ এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানি নিশ্চিত হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। অন্যদিকে এলএনজি আমদানি, কার্গো শিডিউলিং, চুক্তি নেগোশিয়েশন ও বাস্তবায়ন এবং টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে পেট্রোবাংলার কোম্পানি আরপিজিসিএল।

আমদানি করা এলএনজি প্রথমে সমুদ্রপথে দেশের এলএনজি টার্মিনালে পৌঁছায়। সেখানে পুনঃগ্যাসীকরণের মাধ্যমে এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করা হয়। এরপর পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হয় এবং দেশের বিভিন্ন খাতে এই গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

আরপিজিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, কাতারভিত্তিক কাতার এনার্জি এবং ওমান সরকারের জ্বালানি ও পণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করে। ওকিউ ট্রেডিং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতাও এলএনজি সরবরাহ করছে। এর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি আমদানি করে বাংলাদেশ।

/এএসএফ