স্ত্রীর সম্পত্তিতে স্বামীর অধিকার ও অংশ বণ্টনের পদ্ধতিইসলামে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের অধিকার ও দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত। উত্তরাধিকার আইনের ক্ষেত্রেও কারা কতটুকু সম্পত্তি পাবেন, সে বিষয়ে রয়েছে নির্দিষ্ট বিধান। ফলে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তার সম্পত্তিতে স্বামীর যে অংশ নির্ধারিত রয়েছে, তা থেকে তাকে বঞ্চিত করার সুযোগ নেই।ইসলামি ফারায়েজ অনুযায়ী, মৃত স্ত্রীর রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে স্বামীর অংশ নির্ধারিত হয় মূলত স্ত্রীর সন্তান বা অধস্তন কোনো উত্তরাধিকারী রয়েছে কি না—তার ওপর ভিত্তি করে।
সন্তান বা অধস্তন উত্তরাধিকারী না থাকলেমৃত স্ত্রীর কোনো সন্তান বা অধস্তন উত্তরাধিকারী—যেমন পুত্র, পৌত্র, কন্যা প্রভৃতি—না থাকলে স্বামী স্ত্রীর রেখে যাওয়া সম্পত্তির অর্ধেক (১/২) অংশ পাবেন।সন্তান বা অধস্তন উত্তরাধিকারী থাকলেমৃত স্ত্রীর সন্তান বা অধস্তন উত্তরাধিকারী থাকলে স্বামী পাবেন মোট সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ (১/৪)। সন্তান বর্তমান স্বামীর ঔরসজাত হোক কিংবা আগের স্বামীর সন্তান হোক—উত্তরাধিকারীর উপস্থিতির কারণে স্বামীর নির্ধারিত অংশ এক-চতুর্থাংশ হবে।অর্থাৎ, স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তার সম্পত্তি শুধু সন্তানদের মধ্যে দিয়ে স্বামীকে বাদ দেওয়ার বিধান ইসলামে নেই। তবে সম্পত্তি বণ্টনের আগে মৃতের ঋণ, বৈধ ওসিয়তসহ শরিয়তসম্মত অন্যান্য বিষয় নিষ্পত্তি করতে হয়।ইদ্দতের মধ্যে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর মৃত্যুস্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তালাকের পর স্ত্রী ইদ্দত পালনরত অবস্থায় মারা গেলে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্বামী তার উত্তরাধিকারী হতে পারেন।
সে ক্ষেত্রে ফারায়েজের বিধান অনুযায়ী তার প্রাপ্য অংশ নির্ধারিত হবে।উত্তরাধিকার বণ্টনের ক্ষেত্রে পারিবারিক প্রচলন বা ব্যক্তিগত ইচ্ছার পরিবর্তে শরিয়তের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তব কোনো সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে অবশ্য সংশ্লিষ্ট উত্তরাধিকারীদের পূর্ণ তালিকা, ঋণ, ওসিয়ত এবং অন্যান্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে যোগ্য আলেম বা ফারায়েজ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।উল্লেখ্য, ফারায়েজ বিষয়ে আইনবিদ গাজী শামছুর রহমানের ‘ফারায়েজ আইন’ গ্রন্থেও স্ত্রীর সম্পত্তিতে স্বামীর অংশ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। গ্রন্থটির তৃতীয় অধ্যায়ের ৩৬ নম্বর পৃষ্ঠায় এ বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।গাজী শামছুর রহমান (১৯২১-১৯৯৮) ছিলেন বাংলাদেশের একজন আইনবিদ, আইন সংস্কারক, বিচারক ও ভাষাবিদ। আইনবিষয়ক বাংলা গ্রন্থ রচনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক। তিনি ১৯৮৫ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন এবং জেলা জজ ও সরকারের যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট ও বাংলা একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
/বিএসএস