ভারতের পাঞ্জাবের ফিরোজপুরে বিয়ের আয়োজন শেষ পর্যন্ত গড়াল অপ্রত্যাশিত ঘটনায়। বিয়ের আসরে বরকে দেখার পরই তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান কনে। তার অভিযোগ, বিয়ের আগে তাকে যে যুবকের ছবি দেখানো হয়েছিল, বিয়ের আসরে উপস্থিত বর সেই ব্যক্তি নন। তবে কনের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বরের পরিবার। তাদের দাবি, দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং বিয়ের আগে উভয় পরিবারের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগও ছিল।
স্থানীয় সংবাদ সংস্থা ফ্রি প্রেস জার্নালের বরাতে জানা গেছে, রাজস্থানের ছত্তরগড় থেকে বরযাত্রী পাঞ্জাবের ফিরোজপুর জেলায় আসে। সেখানে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলাকালে বরকে দেখে কনে বিয়েতে আপত্তি জানান। এর ফলে বিয়ের আয়োজন শেষ পর্যন্ত কোনো বিয়ে ছাড়াই শেষ হয়।
জানা যায়, বিয়ের মূল আচার-অনুষ্ঠান ও সাতপাক ঘোরার আগেই কনে বিয়েতে আপত্তির কথা জানান। পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের আসরে যাকে বর হিসেবে দেখছেন, আগে তাকে যে ছবিটি দেখানো হয়েছিল, সেই ছবির ব্যক্তির সঙ্গে তার চেহারার মিল নেই।
কনের দাবি, বিয়ের আগে তাকে অন্য এক যুবকের ছবি দেখানো হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের সময় বর হিসেবে হাজির হন সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন ব্যক্তি। কনের এমন অভিযোগের পর দুই পরিবারের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ হয়ে যায়।
অন্যদিকে, কনের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে বরের পরিবার ও আত্মীয়রা। তাদের বক্তব্য, দুই পরিবারের সম্মতি ও বিষয়টি জেনে-বুঝেই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। বিয়ের আগেও দুই পরিবারের মধ্যে মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে তারা দাবি করেন।
বরের পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, বিয়ের আয়োজনের আগেই কনেপক্ষের কাছে বরের ছবিও পাঠানো হয়েছিল। বরের নানা মহেন্দ্র সিং জানান, বিয়ের ঘটক ও কনের মায়ের মাধ্যমে বরের ছবি দেওয়া হয়েছিল।
পরে বরের পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করলে বিষয়টি পুলিশের কাছে গড়ায়। গুরু হর সাহাইয়ের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) তেজিন্দরপাল সিং জানান, ঘটনার দুই দিন আগে তারা অভিযোগটি পেয়েছেন। এরপর পুরো ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি জানতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
ডিএসপি জানান, তদন্তের সময় উভয় পক্ষই নিজেদের বক্তব্য পুলিশের কাছে তুলে ধরেছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের অংশ হিসেবে কনে ও বরের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যও শোনা হয়।
তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আর আইনি জটিলতার দিকে এগোয়নি। ডিএসপি তেজিন্দরপাল সিং জানান, দুই পরিবার নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিরোধের মীমাংসা করেছে। ফলে শেষ পর্যন্ত কোনো বিয়ে ছাড়াই ঘটনার সমাপ্তি ঘটে।
/এসএন