• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৩ এএম


হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ হা’রাচ্ছে ই’রান, বাড়ছে মা’র্কিন নৌ টহল

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৯ আগস্ট ২০২৬ ৪:০৮ পিএম

ইরান যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠা হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই হারাচ্ছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। বুধবার (১৯ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ টহল বাড়ার পর সামরিক দিক থেকে দেশটি আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছে। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে তেহরানের সক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

জাহাজের গতিপথ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা ৮০ শতাংশের বেশি জলযান ওমানি রুট ব্যবহার করেছে। জাতিসংঘ অনুমোদিত এই পথ ব্যবহারের বিষয়ে ইরানের তীব্র আপত্তি থাকলেও মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে অধিকাংশ জাহাজ তেহরানের দাবি উপেক্ষা করে ওই রুট বেছে নিচ্ছে।

কেপলারের ক্রুড অয়েল অ্যানালিসিস বিভাগের প্রধান হোমায়ুন ফালাকশাহীও নিশ্চিত করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরান তার নিয়ন্ত্রণের বড় একটি অংশ হারিয়েছে।

মাত্র এক মাস আগেও ওমানি রুটে জাহাজ চলাচলের হার প্রায় শূন্য ছিল। এখন ব্যাপকভাবে এই বিকল্প পথ ব্যবহারের ফলে জাহাজ থেকে আগের মতো টোল আদায়ের সক্ষমতাও ইরান হারিয়েছে। পিকারিং এনার্জি পার্টনার্সের প্রতিষ্ঠাতা ড্যান পিকারিং বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশ ইরানকে টোল দিতে আগ্রহী নয়। এ কারণেই ওমানি রুট জাহাজগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে।

এদিকে লিপো ওয়েল অ্যাসোসিয়েটসের প্রধান অ্যান্ডি লিপো জানান, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বড় বড় তেলবাহী ট্যাংকার ভাড়া করে হরমুজ প্রণালি পার করছে। বিপজ্জনক এলাকা অতিক্রম করার পর এসব জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করা হচ্ছে।

হামলার আশঙ্কায় এসব জাহাজের ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হলেও মার্কিন নৌবাহিনী প্রতিটি জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান অ্যান্ডি লিপো।

মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের দৈনিক ২০ মিলিয়ন ব্যারেলের তুলনায় এই পরিমাণ বেশ কম হলেও তা আগের মাত্রার কাছাকাছি।

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছেন, বাস্তব পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষই জলপথটির ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।

এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে ওমান ও ইরান হরমুজ প্রণালিতে মুক্ত চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

/এসএন