কুড়িগ্রামের উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিককে তলব করেছেন আদালত। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারে ‘অবহেলা ও গাফিলতি’ দেখিয়ে আদালতের কাজে অসহযোগিতার অভিযোগে ওসিকে তলব করা হয়েছে। একইসঙ্গে ওসির প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের যুগ্ম জেলা দায়রা জজ (প্রথম আদালত) মোহাম্মদ নাজমুল হক এ নির্দেশ দেন। জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, এনআই অ্যাক্টের (দ্য নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্ট-১৮৮২) মামলায় উলিপুরের বাসিন্দা জাহিদ হাসান নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালত ওই পুলিশ কনস্টেবলকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।
আসামি পলাতক থাকায় আদালত আসামির স্থায়ী ঠিকানা উলিপুর এবং বর্তমান ঠিকানা লালমনিরহাট উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানা তামিল করার জন্য উলিপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
কিন্তু আসামি পুলিশের একজন চাকরিরত সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ওসি তাকে গ্রেপ্তার করেননি। এমনকি তাকে গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে আদালত উল্লেখ করেছেন।
ওসিকে তলবের আদেশে আদালত উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ‘আদালত কর্তৃক জারিকৃত গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে তামিলকারী কর্তৃপক্ষ (ওসি উলিপুর) চরম অবহেলা ও গাফিলতি প্রদর্শন করেছেন।’
আদালতের কাজে অসহযোগিতার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উলিপুর থানার বিরুদ্ধে দ্য পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ১৮৭ ধারার বিধান অনুযায়ী কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, আদালত অবমাননার জন্য কেন সুপ্রিম কোর্টকে অবগত করা হবে না এবং অসদাচরণ ও অদক্ষতার জন্য তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কেন সুপারিশ করা হবে না—সে বিষয়ে আগামী ৩০ আগস্ট সকাল ৯টায় সংশ্লিষ্ট আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আদেশের অনুলিপি উলিপুর থানার ওসির পাশাপাশি রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি এবং কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে উলিপুর থানার ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, ‘আদালতের আদেশের কপি এখনও পাইনি। পেলে জবাব দেওয়া হবে।’
পরোয়ানা তামিল না হওয়ার বিষয়ে ওসি বলেন, ‘এমনটা আমার নলেজে নেই। কয়েকদিন আগে ডিএমপি থেকে এক কনস্টেবলকে ধরে এনে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছি। আর লালমনিরহাটে কর্মরত তাকে ধরতে পারব না। তাহলে ওয়ারেন্ট অফিসার হয়তো ঠিকমতো ইয়ে করেনি।’
এর আগে মঙ্গলবার ঢাকার ভাটারায় প্রাইভেটকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে মেজর মো. সাদিকুল হককে (৩০) গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে অসংগতি থাকায় ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করে কারণ দর্শাতে বলেছেন আদালত। ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ তলবের আদেশ দেন।
এদিকে ফেনীর দাগনভূঞা থানার ওসি ফয়জুল আজিম নোমানকে গত রবিবার (৯ আগস্ট) অযোগ্য ঘোষণা করে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান। তবে এবার ট্রাইব্যুনালের সেই বিচারকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ‘প্রত্যাখ্যাত’ হয়েছেন একই ওসি। বুধবার (১২ আগস্ট) ওই আদালতের এজলাসে এ ঘটনা ঘটে। আদালতের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
/এএসএফ