২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে সাফল্য অর্জন করেছে ফেনী শিশু নিকেতন কালেক্টরেট স্কুলের যমজ দুই বোন সামিয়া তাবাসসুম ও সাদিকা তাসকিন। একই সঙ্গে দুই মেয়ের এমন কৃতিত্বে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে।দুই বোনের মধ্যে সামিয়া তাবাসসুম অর্জন করেছে গোল্ডেন জিপিএ-৫। অন্যদিকে সাদিকা তাসকিনও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।তারা ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের প্রবাসী প্রকৌশলী দিদারুল আলম স্বপন ও গৃহিণী সৈয়দা সাম্মী আক্তার জুমুর দম্পতির সন্তান।ছোটবেলা থেকেই একইসঙ্গে বেড়ে ওঠা দুই বোন একই বিদ্যালয় ও একই বিভাগে পড়াশোনা করেছে। এবার একই সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনই প্রত্যাশিত ফল অর্জন করায় পরিবারের আনন্দ যেন দ্বিগুণ হয়েছে।সাফল্যের অনুভূতি জানাতে গিয়ে সামিয়া তাবাসসুম ও সাদিকা তাসকিন জানায়, তাদের এ ফলাফলের পেছনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বাবা-মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে মায়ের সার্বিক পরিচর্যা, পড়াশোনার প্রতি নজরদারি ও নিয়মিত নির্দেশনা তাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।দুই বোনের ভবিষ্যৎ স্বপ্নও আলাদা। সামিয়া তাবাসসুম বড় হয়ে প্রকৌশলী হতে চায়। নিজের পেশাগত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মানুষের সেবা করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার ইচ্ছা রয়েছে তার।অন্যদিকে সাদিকা তাসকিন ভবিষ্যতে জুডিশিয়াল ক্যাডার অথবা আইনজীবী হয়ে বিচার বিভাগে ক্যারিয়ার গড়তে চায়। মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করাই তার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য।যমজ দুই মেয়ের একইসঙ্গে বেড়ে ওঠা, একই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা এবং একই বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বাবা প্রকৌশলী দিদারুল আলম স্বপন।তিনি বলেন, সন্তানদের সাফল্য বাবা-মায়ের জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয়। দুই মেয়ের পরিশ্রম ও শিক্ষকদের সহযোগিতার ফলেই তারা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেয়েছে। ভবিষ্যতে তারা যেন নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, সে জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।স্বপন-জুমুর দম্পতি তাদের দুই কন্যার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও স্বপ্ন পূরণের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।উল্লেখ্য, এই দম্পতির ছোট মেয়েও বর্তমানে পড়াশোনা করছে। সে ফেনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।একই পরিবারের তিন কন্যার পড়াশোনাকে ঘিরে বাবা-মায়ের আগ্রহ ও উৎসাহ সন্তানদের শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যমজ দুই বোনের এই সাফল্য শুধু পরিবারের আনন্দের কারণ নয়, বিদ্যালয় ও এলাকার অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
/