• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম


আজকের লোডশেডিংয়ের ভার আমার কাঁধে দিয়েন না’—অসহায় বিদ্যুৎকর্মীদের আকুতি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১২ আগস্ট ২০২৬ ৮:৪১ পিএম

দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রভাব শুধু সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাতেই পড়ছে না, চরম চাপের মুখে পড়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। বিদ্যুৎ না থাকার জন্য গ্রাহকদের ক্ষোভ, ফোনে গালাগালি, এমনকি হামলার হুমকির অভিযোগও উঠছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে অনেক কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে গ্রাহকদের কাছে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করছেন।

কর্মীদের বক্তব্যের মূল কথা—পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। জাতীয় গ্রিড থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া যায়, সেটিই গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। ফলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কমে গেলে তাদের পক্ষেও স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।

‘আজকের লোডশেডিংয়ের ভার আমার কাঁধে দিয়েন না’

মাঠপর্যায়ে কর্মরত বিদ্যুৎকর্মীদের মানসিক চাপের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টেও উঠে এসেছে। মাদারীপুর এলাকার এক কর্মী ‘বিদ্যুৎ প্রতিদিন’ নামের ফেসবুক পেজে নিজের ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আজকে রাতের লোডশেডিংয়ের ভার আমার কাঁধে দিয়েন না।’

রাজশাহীর বিদ্যুৎকর্মীদের নিয়ে পরিচালিত ‘রাজশাহীর লাইনম্যান পিবিএস এর প্রাণ’ নামের একটি পেজেও নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, অফিসে ভাঙচুর কিংবা কর্মীদের ওপর হামলার আশঙ্কায় তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মীও গ্রাহকদের উদ্দেশে ক্ষোভ ও অনুরোধের সুরে বলেন, বিদ্যুৎকর্মীদের অযথা গালাগালি কিংবা দোষারোপ না করতে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো নিজেরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না; জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করে।

একসঙ্গে আসছে হাজারো ফোন

বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের অভিযোগের বড় একটি অংশ গিয়ে পড়ছে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীদের ওপর। কর্মীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, একটি অফিসে দায়িত্বে থাকা একজন কর্মীর কাছে একসঙ্গে চার-পাঁচটি ফোন থাকে। এর বিপরীতে হাজার হাজার গ্রাহক ফোন করায় সব কলের উত্তর দেওয়া সম্ভব হয় না।

তাদের অভিযোগ, অনেক গ্রাহক বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ফোনে অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং কর্মীদের ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করেন। দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম

স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসগুলোর বিভিন্ন বার্তা থেকেও জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া বিদ্যুতের ঘাটতির চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।

‘পল্লী বিদ্যুৎ খোকসা, কুষ্টিয়া’ পেজের এক বার্তায় জানানো হয়েছে, পিক আওয়ারে এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৪ মেগাওয়াট হলেও বটতৈল গ্রিড থেকে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। ফলে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

চব্বিশ ঘণ্টার নির্দিষ্ট লোডশেডিং শিডিউল দিতে না পারার কারণ হিসেবে গ্রিড থেকে বরাদ্দের পরিমাণ বারবার পরিবর্তিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আগে থেকে তৈরি করা শিডিউলও ঠিকভাবে অনুসরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

গ্রাহকদের পরিস্থিতি বোঝাতে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসগুলো নিয়মিত সতর্কতামূলক বার্তাও প্রকাশ করছে।

নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ পল্লী বিদ্যুৎ

দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ বাড়তে থাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতির পর কয়েকটি জেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিদ্যুৎকেন্দ্র, স্থানীয় কার্যালয় এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত আবেদন করেছে।

এর আগে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনও দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, লোডশেডিং নিয়ে জনরোষের কারণে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামো হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

/এএসএফ