ভারতের উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে ডেটিং অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পর অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেলের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, এভাবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি রুপি আদায় করা হয়েছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা।
শনিবার (৮ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত তরুণীর নাম পল্লবী সিংহ রাজপুত। তার বিরুদ্ধে যৌনতার ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেল এবং অর্থ আদায়ের লিখিত অভিযোগ করেছেন হাই কোর্টের এক আইনজীবী।
অভিযোগ অনুযায়ী, পল্লবী নিজের রূপ ও আকর্ষণকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করতেন। কখনো বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে তাদের কাছে আসতেন। এভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগে কৌশলে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করতেন। পরে সেসব ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের ওপর শুরু হতো ধারাবাহিক চাপ ও ব্ল্যাকমেল—এমনটাই দাবি করেছেন অভিযোগকারী আইনজীবী।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলাহাবাদ হাইকোর্টের এক আইনজীবীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কথিত এই চক্রের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগে পল্লবী সিং রাজপুত নামের ওই নারীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে পল্লবী পুরুষদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন। শুরুতে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা হতো। এরপর দেখা করার পরিকল্পনা করে কৌশলে তাদের অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে ওই ছবি ও ভিডিওকে হাতিয়ার করে ভুক্তভোগীদের কাছে অর্থ দাবি করা হতো বলে অভিযোগ। কেউ অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ কিংবা হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ওই নারীর করা কথিত মিথ্যা মামলায় এরই মধ্যে অন্তত পাঁচজন কারাভোগ করেছেন। আইনি জটিলতায় পড়া এবং সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আশঙ্কায় অনেক ভুক্তভোগী বাধ্য হয়ে অর্থ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পল্লবীর দুটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। এর একটি ছবিতে তাকে বিছানায় ছড়িয়ে রাখা ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিলের পাশে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। অন্য একটি ছবিতে তার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে। তবে ভাইরাল হওয়া এসব ছবির সত্যতা ও উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, নতুন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য পল্লবী সুইটি তিওয়ারিসহ একাধিক ছদ্মনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতেন। অভিযোগ রয়েছে, কথিত ব্ল্যাকমেল ও অর্থ আদায়ের এই কাজে তাকে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী সহযোগিতা করতেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি পুরো কথিত চক্রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অনুসন্ধান শুরু করেছে প্রয়াগরাজ পুলিশ।
/এসএন