• ঢাকা
  • বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম


গা/জায় ৩ বছর পর ধ্বং/সস্তূপ থেকে উদ্ধার ১১২ ম/রদেহ, গণ-জানাজায় দাফ/ন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ আগস্ট ২০২৬ ৩:৪০ পিএম

গাজায় ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি হামলায় নিহত দুই ফিলিস্তিনি পরিবারের ১১২ সদস্যের মরদেহ প্রায় তিন বছর পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করে গণ-জানাজার মাধ্যমে দাফন করা হয়েছে। চলমান যুদ্ধের মধ্যে এটিকে গাজার অন্যতম বৃহৎ গণ-জানাজার ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা শহরে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে আবু শরিয়া ও আল-হাসায়না পরিবারের সদস্যদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে উদ্ধারকারী দল গাজা সিটির সাবরা মহল্লায় ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর ইসরায়েলি হামলার স্থান থেকে ১১২টি মরদেহ উদ্ধার করে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় দুই পরিবারের মোট ৩০৮ জন নিহত হয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে ৪০ জন শিশু, ৩০ জন নারী এবং সাতজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ছিলেন। তবে এখনো প্রায় ১৫৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন অথবা তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

দাফনের সময় ফিলিস্তিনি পতাকায় মোড়ানো সারি সারি কফিন গাজা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোকাহত স্বজনরা নিহতদের ছবি বহন করেন এবং একই সঙ্গে গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান।

গাজার ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল এই গণ-জানাজাকে যুদ্ধ চলাকালে অনুষ্ঠিত অন্যতম বৃহৎ জানাজা বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বছরের পর বছর স্বজনদের দাফনের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর অসীম কষ্ট ও মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে এই আয়োজন।

ফিলিস্তিনি জাতীয় উদ্যোগের মহাসচিব মুস্তফা বারঘুতি বলেন, এটি সম্ভবত ফিলিস্তিনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জানাজাগুলোর একটি। গবেষক, মানবাধিকারকর্মী ও সামাজিক কর্মীরাও মনে করেন, এই দাফন অনুষ্ঠান ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা হাজারো নিখোঁজ মানুষের পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও বেদনার প্রতিফলন।

ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটরের চেয়ারম্যান রামি আবদু দাবি করেন, শুধু আবু শরিয়া পরিবারেরই প্রায় ২০০ সদস্যের দেহাবশেষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ফিলিস্তিনি বিভিন্ন গোষ্ঠী ও পরিবার পরিষদ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মরদেহ উদ্ধারের কাজ দ্রুততর করা, ধ্বংসাবশেষ অপসারণ এবং গাজার পুনর্গঠনে সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, ১১২ জনের দাফনের মাধ্যমে কিছু পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলেও এখনো হাজারো নিখোঁজ মানুষের সন্ধান মেলেনি।

/এসএন