• ঢাকা
  • বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম


গাজায় ইসরাইলি হামলা: প্রায় তিন বছর পর ধ্বংশস্তূপ থেকে উদ্ধার হলো ১১২ স্বজনের!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ আগস্ট ২০২৬ ১২:৪৯ পিএম

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত একই পরিবারের ১১২ সদস্যের মরদেহ প্রায় তিন বছর পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত জুলাইয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার শেষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

গাজা সিটির আবু শারিয়া ও আল-হাসাইনা পরিবারের স্বজনরা ফিলিস্তিনি পতাকায় মোড়ানো মরদেহগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে শেষ বিদায় জানান। প্রায় এক হাজার দিন পর প্রিয়জনদের দাফনের সুযোগ পেয়ে যেমন কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন, তেমনি নতুন করে শোকও নেমে এসেছে তাদের জীবনে।

হামলায় স্বজন হারানো আমের আবু শারিয়া বলেন, “আমরা একই সঙ্গে আনন্দ ও কষ্ট অনুভব করছি। তিন বছর পর শহীদদের দাফন করতে পারছি, এটাই স্বস্তি। কিন্তু মনে হচ্ছে হত্যাকাণ্ডটি যেন আজই ঘটেছে।”

এক হামলায় প্রাণ হারান ৩০০-এর বেশি মানুষ

২০২৩ সালের নভেম্বরে গাজার সাবরা এলাকায় একটি আবাসিক ব্লকে বিমান হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। ওই ভবনগুলোতে আবু শারিয়া ও আল-হাসাইনা পরিবারের শত শত সদস্য বসবাস করতেন এবং অনেকে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৪৪ জন শিশু, ৩৭ জন নারী এবং ১০ জনের বেশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ছিলেন। ভবন ধসে পড়ায় অধিকাংশ মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যায়।

যুদ্ধের শুরুতে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইসরাইলের আরোপিত সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জামও গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি।

১৭ দিনের অভিযানে উদ্ধার ১১২ মরদেহ

গত ১৪ জুলাই সীমিত সরঞ্জাম নিয়ে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মানবদেহের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় উদ্ধারকাজ ছিল অত্যন্ত কঠিন।

১ আগস্ট পর্যন্ত টানা ১৭ দিনের অভিযানে ১১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো আরও অনেক মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে।

গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, “অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে ১৭ দিন কাজ করে আমরা ১১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। কিন্তু এখনো হাজারো মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছেন। তাদের স্বজনরা এখনো লাশ উদ্ধারের অপেক্ষায় আছেন।”

নিহতদের মধ্যে ছিলেন সাবেক মন্ত্রীও

নিহতদের মধ্যে ছিলেন পরিবারের প্রধান ফাতি আবু শারিয়া এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক গণপূর্ত ও আবাসনমন্ত্রী মুফিদ আল-হাসাইনা। তিনি ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকও ছিলেন।

বেঁচে ফেরা মাহমুদ আল-হাসাইনা জানান, প্রায় ২০০ আত্মীয় তার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। নিরাপদ মনে করেই সবাই সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বাড়িতেও বিমান হামলা চালানো হয়, যাতে সাবেক মন্ত্রীসহ প্রায় সবাই নিহত হন।

তিনি বলেন, “ইসরাইল শিশু, নারী কিংবা কোনো বাড়ির প্রতিও সম্মান দেখায়নি। সবাইকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে।”

হামলার সময় মাহমুদ আল-হাসাইনা সেখানে না থাকলেও তার ছেলে আহত হন। এছাড়া ভাই, দুই বোন, তাদের সন্তানসহ অসংখ্য স্বজনকে হারিয়েছেন তিনি।

এখনো নিখোঁজ হাজারো মানুষ

গাজার নিখোঁজ ব্যক্তিবিষয়ক সরকারি কমিটির প্রধান ওমর নোফাল জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ৬ হাজার মানুষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই এখনো ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে আছেন।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া হাজারো মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

/এএসএফ