• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম


তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে, লালমনিরহাটে ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ আগস্ট ২০২৬ ২:৫৬ পিএম

ভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে তিস্তা নদীর দুই তীরের বিস্তীর্ণ চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৬টা ও ৯টায় তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২৮ মিটার, যা বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটারের চেয়ে ১৩ সেন্টিমিটার বেশি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত থেকেই ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। রাতের মধ্যেই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে বুধবার সকালে তিস্তার দুই তীরের নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়।

বন্যার পানিতে লালমনিরহাট সদর, পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, সিন্দুর্না, হলদিবাড়ী ও ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জের ভোটমারী, শৈলমারী ও নোহালী, আদিতমারীর মহিষখোঁচা, গোবর্ধন, বাহাদুরপাড়া ও পলাশী এবং সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, কুলাঘাট, মোগলহাট, রাজপুর, বড়বাড়ী ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিচু অঞ্চল।

পানিবন্দি পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই ঘরের ভেতর মাচা তৈরি করে বসবাস করছেন। দিনের খাবার একবারে রান্না করে সংরক্ষণ করছেন। কেউ কেউ উঁচু সড়ক বা বাঁধের ওপর অস্থায়ী চুলা বসিয়ে রান্না করছেন। গবাদিপশু রক্ষায় রাস্তার পাশে পলিথিনের তাবু তৈরি করা হয়েছে। নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা।

গোবর্ধন গ্রামের বাসিন্দা আজিজার রহমান বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকেই দ্রুত পানি বাড়তে শুরু করেছে। চরাঞ্চলের অধিকাংশ বাড়ি পানিবন্দি হয়ে গেছে। পানির সঙ্গে সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রবও বেড়েছে। গবাদিপশুর জন্য শুকনো জায়গা ও খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

উত্তর ডাউয়ামারী গ্রামের জুয়েল জানান, গ্রামের প্রায় সব বাড়িতেই হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি। রান্নাবান্না, খাওয়া-দাওয়া ও বসবাস কঠিন হয়ে পড়েছে। সন্তানদের নিয়ে রাতভর আতঙ্কে কাটাতে হয়েছে।

মহিষখোঁচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী বলেন, রাত থেকেই তিস্তার পানি বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলের বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে তিস্তার পানি বেড়ে সকাল থেকে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

/এএসএফ