• ঢাকা
  • বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম


ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একযোগে মামলা করল আমেরিকার ২৫ অঙ্গরাজ্য!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ আগস্ট ২০২৬ ৯:০৫ এএম

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আমদানি শুল্কনীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্য যৌথভাবে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে আগের শুল্কনীতি বাতিল হওয়ার পর ভিন্ন আইনি ভিত্তিতে একই ধরনের শুল্ক পুনরায় আরোপের অভিযোগ এনে সোমবার (৩ আগস্ট) ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক বা বাধ্যতামূলক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানিতে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে ট্রাম্প প্রশাসন গত মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের ৫৯টি দেশের ওপর দুই অঙ্কের আমদানি শুল্ক আরোপ করে। সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পর চালু করা সাময়িক শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন এই শুল্ক কার্যকর করা হয়।

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, সুপ্রিম কোর্টে হেরে যাওয়ার পর প্রশাসন আবারও নতুন শুল্কের মাধ্যমে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর অবৈধভাবে করের বোঝা চাপানোর চেষ্টা করছে।

মামলায় অংশ নেওয়া অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা, কলোরাডো, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, হাওয়াই, ইলিনয়, কেনটাকি, ম্যাসাচুসেটস, মেরিল্যান্ড, মেইন, মিশিগান, মিনেসোটা, নেভাদা, নিউ জার্সি, নিউ মেক্সিকো, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওরেগন, পেনসিলভেনিয়া, রোড আইল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, ভার্মন্ট, ওয়াশিংটন ও উইসকনসিন।

মার্কিন উৎপাদন খাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে ট্রাম্প গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিম্ন শুল্কনীতিতে পরিবর্তন আনেন। তিনি ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) ব্যবহার করে বাণিজ্য ঘাটতিকে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করে বিভিন্ন দেশের আমদানির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, আইইইপিএ প্রেসিডেন্টকে এ ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। ফলে প্রশাসনকে আদায় করা অর্থ ফেরত দিতে হয়।

এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১ ব্যবহার করে নতুন শুল্কনীতি কার্যকর করে। এই আইনের আওতায় অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার অভিযোগে বিভিন্ন দেশের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত পণ্যের প্রায় ৯৯ শতাংশের ওপর প্রভাব ফেলছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই সরকারের অবস্থান সমর্থন করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক ও অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা মোকাবিলায় প্রশাসন আইনসম্মত ক্ষমতা ব্যবহার করছে। তার দাবি, সেকশন ৩০১ অতীতেও আদালতে বৈধতা পেয়েছে এবং এটি এখনো কার্যকর আইনি ভিত্তি।

এদিকে ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলার পাশাপাশি গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে কয়েকটি ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও একই শুল্কনীতির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে। তাদের অভিযোগ, সরকার প্রতিটি দেশের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি এবং শুল্ক আরোপ কীভাবে সংশ্লিষ্ট অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা বন্ধ করবে, তারও যথাযথ ব্যাখ্যা দেয়নি।

নিউইয়র্ক ল স্কুলের আন্তর্জাতিক আইনকেন্দ্রের সহ-পরিচালক ও অধ্যাপক ব্যারি অ্যাপলটন বলেন, একই ধরনের শুল্ক আরোপে প্রশাসন বিভিন্ন আইনি ধারা ব্যবহার করায় মামলাটি জটিল হয়েছে। তবে আদালতের মূল বিবেচ্য বিষয় হবে, সরকার কংগ্রেস নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে কি না।

সূত্র: এপি

/এএসএফ