ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর ইসরাইলের কাছ থেকে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ও অস্ত্র কেনার বিষয়ে আলোচনা করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ফাঁস হওয়া কিছু ই-মেইলের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ ও ড্রপ সাইট নিউজ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ২০২৩ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত ইসরাইলের বৃহত্তম অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমস এবং ইউএইর মধ্যে হার্মিস-৯০০ ড্রোন, স্কাইআই নজরদারি ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সহায়তা সরবরাহ নিয়ে আলোচনা চলছিল।
ফাঁস হওয়া নথিতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি আবুধাবিতে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর সম্ভাব্য এই চুক্তিকে ‘জরুরি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এলবিট সিস্টেমসের কর্মকর্তাদের ই-মেইলগুলো ‘হানদালা’ নামে একটি অনলাইন হ্যাকিং গোষ্ঠী সংগ্রহ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গোষ্ঠীটির সঙ্গে ইরান সরকারের সম্ভাব্য সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করা হলেও, ফাঁস হওয়া তথ্য দুটি সংবাদমাধ্যম যাচাই করেছে।
প্রাথমিকভাবে ড্রোন বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পরে অতিরিক্ত প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম যুক্ত হওয়ায় এর সম্ভাব্য মূল্য বেড়ে ২২৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে শেষ পর্যন্ত ড্রোনগুলো সরবরাহ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে ফাঁস হওয়া নথিতে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।
স্কাইআই নজরদারি ব্যবস্থায় উচ্চক্ষমতার অপটিক্যাল ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়, যা বিস্তীর্ণ এলাকা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর গতিপথ ও উৎস শনাক্ত করতে সক্ষম।
অন্যদিকে, হার্মিস-৯০০ একটি উন্নত গোয়েন্দা ও নজরদারি ড্রোন, যা প্রায় ৯৯০ পাউন্ড পর্যন্ত সরঞ্জাম বহন করতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এটিকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ফাঁস হওয়া ই-মেইল অনুযায়ী, ২০২২ সালের মার্চে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অস্ত্র উন্নয়ন বিভাগের গবেষণা ও উন্নয়ন প্রধান ইউএই সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ওই সফরে এমন একটি নজরদারি ব্যবস্থা উপস্থাপনের পরিকল্পনা ছিল, যা দেশের সীমান্তের বাইরেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ শনাক্ত করতে সক্ষম।
এর আগে হুথিদের হামলায় আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং তেলবাহী ট্রাক লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।
ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২০ সালে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা।
ফাঁস হওয়া নথিতে স্কাইস্ট্রাইকার লয়টারিং মিউনিশন এবং হার্মিস-৬৫০ ড্রোন নিয়েও আলোচনার উল্লেখ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব নথি ইউএই ও ইসরাইলের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার গভীরতা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরাইলি সামরিক প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
/এএসএফ