• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৭ এএম


জুলাই শহীদদের মায়েদের আহাজারি: ‘দুই বছরেও বিচার পাইনি’

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩ আগস্ট ২০২৬ ১:৪৯ এএম

‘আমি সিসি (ক্লোজ সার্কিট টিভি) ক্যামেরায় দেখেছি, কারা গুলি করেছে আমার ছেলেকে, আমার সন্তানকে মারধর কারা করেছে, টেনে নিয়ে যাচ্ছে কারা। আমি সবাইকে চিনি। কিন্তু কারও বিচার হচ্ছে না। আমি সরকারকে বলতে চাই, আমার সন্তানসহ সব সন্তান হত্যার বিচার নিশ্চিত করুন।’

কথাগুলো বলছিলেন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ ইমাম হাসান ভূঁইয়া তাইমের মা পারভীন আক্তার। আজ রোববার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির নাট্যমঞ্চে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

‘২০২৪-এর রক্তিম বর্ষায় সন্তান হারানো মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদদের মায়েরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে আরেক শহীদ মেহেরুন্নেসা তানহার মা আছমা আক্তার বলেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, জুলাই শহীদ হত্যার বিচার এবং আহত ব্যক্তিদের দেখভালের দায়িত্ব সরকার যদি পালন না করে, তাহলে এই কষ্ট তাঁদের সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হবে।

শহীদ মেহেদী হাসানের মা পারভীন আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলের কোনো দোষ ছিল না। অথচ তাকে তিনটি গুলি করে পুলিশ। আমরা সন্তান হারিয়েছি আজ দুই বছর পার হলেও এখনো কোনো বিচার পাইনি। বিচার যে পাব, সেটার কোনো নিশ্চয়তাও পাচ্ছি না।’

তিনি সরকারকে দ্রুত জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, অনেকে ২০২৪ সালের ঘটনাকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘আপনারা মনে রাখবেন, আপনারা সেটা পারবেন না। কারণ, চব্বিশে কী ঘটে গেছে, সেটা এই দেশে যাঁরা ছিলেন, একমাত্র তাঁরাই উপলব্ধি করতে পারবেন।’

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম শহীদ জননীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদেরকে আপনারা আপনাদের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করুন। কারণ, আপনাদের সন্তানেরা প্রাণ দিয়েছে বলেই আমরা নতুন এক বাংলাদেশ দেখতে পেয়েছি।’

অনুষ্ঠানে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ অর্জনে যাঁরা জীবন দিয়েছিলেন, তাঁদের সেই রক্তের দাম আমরা এখনো দিতে পারিনি। জুলাইয়ের শহীদের সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ যদি আমরা গড়তে না পারি, সেটা হবে শহীদদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।’

শহিদুল আলম আরও বলেন, ‘দুই বছর পার হতেই জুলাই শহীদদের ভুলতে বসেছি। ক্ষমতা চায়, আমরা তাঁদের ভুলে যাই। ক্ষমতা চায়, সবকিছু আগের মতো চলুক, আগের মতো সব থাকুক।’

অনুষ্ঠানে কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের উপস্থিতিতে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানভিত্তিক দেশাত্মবোধক একটি গানের অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকাশ করা হয়। গানটি গেয়েছেন আসিফ আকবর। তিনি জানান, এই গান থেকে আগামী ৬০ বছরে যে অর্থ আয় হবে, তা জুলাই ফাউন্ডেশনকে দান করবেন।

আসিফ আকবর বলেন, জুলাই ফাউন্ডেশনকে বাঁচিয়ে রাখা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ, এই ফাউন্ডেশন জুলাইয়ে প্রাণ হারানো মানুষের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে। একজন শিল্পী হিসেবে ফাউন্ডেশনকে সব ধরনের সহযোগিতার ক্ষেত্রে তিনি সব সময় আপ্রাণ চেষ্টা করবেন বলেও ঘোষণা দেন।

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জুলাইয়ের শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসি আরা জামান। তিনি এই ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন শহীদ রমিজ উদ্দিন আহমেদের মা রাবেয়া সুলতানা, শহীদ গোলাম নাফিজের মা নাজমা আক্তার প্রমুখ।