স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি এবং জাইমা রহমানের মা ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, স্বেচ্ছায় রক্তদান একটি অসাধারণ মানবিক কাজ। তিনি জানান, তার কন্যা জাইমা রহমান এ পর্যন্ত সাতবার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি)-এ বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির (বিটিএস) আয়োজিত ‘রক্তদাতা সম্মাননা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের অবদানকে স্বীকৃতি ও কৃতজ্ঞতা জানানোর উদ্দেশ্যে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘স্বেচ্ছায় যারা রক্ত দান করেন তাদের এই অসামান্য মানবিক কাজের জন্য জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ। আমি আজ বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাই আমার কন্যা জাইমা রহমানকে, যিনি একজন স্বেচ্ছায় রক্তদাতা। এযাবৎ তিনি ৭ বার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন।’
থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এখনও অনেক মানুষ জানেন না যে থ্যালাসেমিয়া একটি প্রতিরোধযোগ্য ব্যাধি। একই সঙ্গে রোগটির চিকিৎসা সম্পর্কেও অনেকের পর্যাপ্ত ধারণা নেই। তিনি বলেন, থ্যালাসেমিয়া যোদ্ধাদের শতভাগ সুস্থ করা সম্ভব না হলেও তাদের প্রতি সহমর্মিতা ও মানসিক সমর্থন বাড়াতে হবে। সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তরা একা নন, সমাজ ও দেশের মানুষ তাদের পাশে রয়েছে।
দেশব্যাপী থ্যালাসেমিয়া এবং অন্যান্য জন্মগত ও বিরল রোগে আক্রান্ত মানুষের একটি সঠিক ডেটাবেস তৈরির ওপরও জোর দেন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের রোগীদের তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি নিবন্ধন ব্যবস্থা বা রেজিস্টারও চালু করা প্রয়োজন।
থ্যালাসেমিয়া শনাক্তকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তঃসত্ত্বাকালীন সময় থেকে শুরু করে জীবনের যেকোনো পর্যায়ে সাধারণ স্ক্রিনিং পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। শনাক্ত হওয়ার পর রোগীদের প্রয়োজন যথাযথ চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, পর্যাপ্ত ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস।
তিনি আরও প্রস্তাব করেন, দেশের বিভিন্ন সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে থ্যালাসেমিয়া শনাক্তকরণ কার্যক্রম বিস্তৃত করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও রোগের উপসর্গ শনাক্ত করা সহজ হবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সরকার যদি এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়, তবে তাদের থ্যালাসেমিয়ার উপসর্গ, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং রোগীদের মানসিকভাবে আশ্বস্ত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। এতে গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নতুন ও পুরোনো রোগী শনাক্ত করা আরও সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ এবং বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
/এসএন