• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১২:২১ এএম


বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করল সৌদি আরব

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩১ জুলাই ২০২৬ ৯:০৬ পিএম

বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের অংশগ্রহণে নতুন একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামে এই জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ভারত মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরকে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই জোটের মূল লক্ষ্য।যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। প্রণালিটির কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।এদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের ধারাবাহিক হামলার কারণে বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর হয়ে চলাচলকারী নৌপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।জোট গঠন উপলক্ষে আয়োজিত বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদলও বৈঠকে উপস্থিত ছিল। বর্তমানে ইইউ ‘অ্যাসপিডেস’ নামে লোহিত সাগরে একটি নৌ-নিরাপত্তা মিশন পরিচালনা করছে। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন জোটটির সঙ্গে ওই মিশনের সম্পর্ক বা পার্থক্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।সৌদি আরব ছাড়াও এই জোটে রয়েছে তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এখন পর্যন্ত এই জোটে যোগ দেয়নি।সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশও এই জোটে যোগ দিতে পারবে।বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অভিন্ন বিশ্বাস হলো সামুদ্রিক নিরাপত্তা একটি যৌথ দায়িত্ব এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় সমন্বিত সহযোগিতাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।জোটে অংশ নেওয়া দেশগুলো কতটি যুদ্ধজাহাজ, বিমান বা অন্যান্য সামরিক সম্পদ সরবরাহ করবে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে জোটের কার্যক্রমের মধ্যে থাকবে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ অপারেশন পরিকল্পনা, সামরিক মহড়া এবং সমন্বিত সামুদ্রিক অভিযান।সৌদি আরবের দাবি, এই জোট সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে এটি গঠন করা হয়নি। যদিও সৌদি আরবকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, জোটের সদর দপ্তর কোথায় হবে সে বিষয়েও এখনো কিছু জানানো হয়নি।গত সপ্তাহে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে। এর ফলে লোহিত সাগর হয়ে বিকল্প পথে পাঠানো সৌদি তেলের চালানও বাধাগ্রস্ত হতে শুরু করেছে।ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ শুরুর পর এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরব পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে সংযুক্ত পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে অধিকাংশ তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখে। তবে সেই তেলবাহী জাহাজগুলোকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি অতিক্রম করতে হয়।বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সবচেয়ে সরু স্থানে প্রণালিটির প্রস্থ মাত্র ২৯ কিলোমিটার হওয়ায় যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বা হামলা সহজেই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।সৌদি আরব পুনরায় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আরও দেশকে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে। তাদের মতে, আন্তঃরাষ্ট্রীয় সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতাই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

সূত্র: আল জাজিরা

/বিএসএস