• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০২:২১ পিএম


নিট আন্দোলন মূলত মুসলমানদের ‘গাজওয়া-ই-হিন্দ’ এজেন্ডার অংশ: বিজেপি নেতা নিতীশ রানে

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৯ জুলাই ২০২৬ ৬:১৮ পিএম

নিট আন্দোলনে ‘গাজওয়া-ই-হিন্দ’ এজেন্ডার অভিযোগ বিজেপি নেতার

শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক নিট (NEET) আন্দোলনের আড়ালে ‘গাজওয়া-ই-হিন্দ’ এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মহারাষ্ট্রের মন্ত্রিসভার সদস্য ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা নিতীশ রানে। মহারাষ্ট্র সাইবার ক্রাইম বিভাগের একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে তিনি এ দাবি করেন।

নিট পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে বিদেশি মদদপুষ্ট ডিজিটাল প্রচারণার অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মহারাষ্ট্র সাইবার ক্রাইম বিভাগের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ৫০০টিরও বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করেছেন, যেগুলো ভুয়া পোস্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কনটেন্ট এবং ডিপফেক ভিডিও ছড়িয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, চিহ্নিত অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে শতাধিক পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, এসব অনলাইন কার্যক্রম আন্দোলনের সময় উত্তেজনা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। তবে সাইবার অপরাধ বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত এখনো চলমান।

সাইবার রিপোর্টের প্রসঙ্গ তুলে নিতীশ রানে বলেন, নিট পরীক্ষা ছিল আন্দোলনের মূল বিষয়, কিন্তু কিছু গোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করেছে।

তিনি দাবি করেন, “আসল সমস্যা ছিল নিট পরীক্ষা, কিন্তু কিছু মানুষ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে অন্য এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছে। যারা পাকিস্তানে বসে তাদের মাস্টারদের হয়ে কাজ করছিল, তারা ‘গাজওয়া-ই-হিন্দ’-এর স্বপ্ন দেখছিল। আমাদের শিক্ষার্থীদের বদনাম করা হয়েছে এবং এই ধরনের মানুষদের চিহ্নিত করা হবে।”

এ ছাড়া বিক্ষোভ চলাকালে দেবী সীতাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং ‘সার তান সে জুদা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান বিজেপির এই নেতা। একই সঙ্গে আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করা স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান কুনাল কামরার প্রসঙ্গ তুলে অনেকের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মহারাষ্ট্র সাইবার ক্রাইম বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশভিত্তিক কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বা সংগঠিত নেটওয়ার্ক ভুয়া তথ্য ও ডিপফেক ভিডিওর মাধ্যমে আন্দোলনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগ ও তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং স্বাধীন কোনো সংস্থার মাধ্যমে যাচাইও করা হয়নি।

/এএসএফ