• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম


ক্যানসারের অভিযোগে ৫৫০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণে রাজি জনসন অ্যান্ড জনসন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৮ জুলাই ২০২৬ ১১:৪০ এএম

বিশ্বখ্যাত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন তাদের ট্যাল্কভিত্তিক বেবি পাউডার ও অন্যান্য পণ্যের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ডিম্বাশয়ের ক্যানসার-সংক্রান্ত হাজারো মামলার নিষ্পত্তিতে ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলার (৫.৫ বিলিয়ন ডলার) পরিশোধে সম্মত হয়েছে। প্রায় ১৫ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর এটি প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বড় সমঝোতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কোম্পানির ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের আদালতে চলমান প্রায় ৬৯ হাজার মামলা নিষ্পত্তি হবে। এটি দেশটিতে ট্যাল্ক পণ্যসংক্রান্ত অবশিষ্ট মামলার প্রায় ৯৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে সমঝোতাটি কার্যকর হতে হলে অন্তত ৯৫ শতাংশ বাদীকে এতে সম্মতি দিতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে হাজারো নারী অভিযোগ করে আসছেন, জনসন অ্যান্ড জনসনের ট্যাল্কভিত্তিক বেবি পাউডার নিয়মিত ব্যবহারের ফলে তারা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে কোম্পানিটি শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, ট্যাল্ক ও ক্যানসারের মধ্যে কারণগত সম্পর্ক বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।

তবুও দীর্ঘমেয়াদি আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটাতেই এই সমঝোতার পথে হেঁটেছে প্রতিষ্ঠানটি।

জনসন অ্যান্ড জনসনের লিটিগেশন বিভাগের প্রধান এরিক হাস এক বিবৃতিতে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এখন এই দীর্ঘ আইনি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়ে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা প্রযুক্তি উন্নয়নের মূল কার্যক্রমে মনোযোগ দিতে চায়। অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ের বাস্তবসম্মত সমাধান হিসেবে সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

ট্যাল্ক একটি প্রাকৃতিক খনিজ, যা একসময় প্রসাধনী ও বেবি পাউডারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। ক্যানসারের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক বাড়তে থাকায় জনসন অ্যান্ড জনসন ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে ট্যাল্কভিত্তিক বেবি পাউডার বিক্রি বন্ধ করে দেয়। এছাড়া ২০২৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যানসার গবেষণা সংস্থা (আইএআরসি) ট্যাল্ককে “সম্ভবত মানুষের জন্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে।

তবে এই সমঝোতা যুক্তরাজ্যে চলমান মামলাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সেখানে সাত হাজারের বেশি সম্ভাব্য দাবিদারকে নিয়ে জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বড় পণ্য দায়বদ্ধতা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলায়ও অভিযোগ করা হয়েছে, কোম্পানিটি সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি জেনেও ট্যাল্কভিত্তিক পণ্য বাজারজাত করেছে। যদিও সেই অভিযোগও অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

/এএসএফ