সাভারে চলন্ত একটি বাসে এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি করে বাসটি থামায়। পরে বাস থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বাসের চালক, তার সহকারী এবং চালকের এক পরিচিত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার দিবাগত রাতে সাভার উপজেলার আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন বাসের চালক মো. ইমরান (৩৫), তার সহকারী মো. মুসফেকুর রহমান (২০) এবং চালকের পরিচিত মো. সুমন প্রামাণিক (৩০)। তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে।
আশুলিয়া থানা পুলিশ জানায়, শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে সাভারের নবীনগর যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন ওই নারী। নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর আগেই বাসের চালক ইমরান বাস চালানোর দায়িত্ব তার সহকারী মুসফেকুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন।
এরপর ইমরান ওই নারীর সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তিকে মারধর করেন এবং হত্যার হুমকি দিয়ে বাস থেকে নামিয়ে দেন। পরে ইমরান নিজেও বাস থেকে নেমে যান। সে সময় বাসে ছিলেন মুসফেকুর রহমান ও সুমন প্রামাণিক।
অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর সুমনের সহযোগিতায় মুসফেকুর চলন্ত বাসে ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
এদিকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া ওই নারীর পরিচিত ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে ঘটনাটি পুলিশকে জানান। খবর পাওয়ার পর আশুলিয়া থানা পুলিশ আশুলিয়ার রাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি বাস দিয়ে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে সাভার পরিবহনের বাসটি থামানো হয়।
বাস থামানোর পর পুলিশ ভেতর থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকেই মুসফেকুর রহমান ও সুমন প্রামাণিককে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় শনিবার রাতেই ভুক্তভোগী নারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে রোববার বিকালে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকা থেকে বাসচালক মো. ইমরানকে গ্রেফতার করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় মুসফেকুর রহমান ও সুমন প্রামাণিককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে চালক ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
/এসএন