• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৫ এএম


মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান কি পারমাণবিক শক্তি অর্জনের পথে? উদ্বেগ মার্কিন গোয়েন্দাদের!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৬ জুলাই ২০২৬ ৮:০৪ এএম

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দাবি করা হয়েছে, তিনি তার প্রয়াত বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির তুলনায় পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির বিষয়ে আরও আগ্রহী হতে পারেন।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আগ্রহ বেড়েছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা। বিশেষ করে সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক হামলার পর তেহরানের কৌশলগত অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা থাকা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি পারমাণবিক কর্মসূচির প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে সমর্থন করলেও প্রকাশ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের পক্ষে অবস্থান নেননি। তবে তার মৃত্যুর পর দায়িত্ব নেওয়া মোজতবা খামেনি সেই নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারেন বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে খুব কম দেখা গেছে। তবে বর্তমানে তিনিই ইরানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পদে রয়েছেন এবং নিরাপত্তা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, মোজতবা খামেনির ব্যক্তিগত অবস্থান সম্পর্কে যে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে, তার বেশিরভাগই বর্তমান সংঘাত শুরুর আগের। ফলে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তার নীতিগত অবস্থানে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। পাশাপাশি তার বাবা যে মাত্রার রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ভোগ করতেন, মোজতবা এখনো সেই একই পর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে দেশটি কয়েকটি উন্নত সেন্ট্রিফিউজ ও স্পর্শকাতর পারমাণবিক সরঞ্জাম আরও সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় স্থানান্তর করছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ বিমান হামলা থেকে এসব স্থাপনা রক্ষার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, ইরান এখন পর্যন্ত তাদের স্থগিত পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালু করেনি এবং প্রকাশ্যেও পারমাণবিক বোমা তৈরির সিদ্ধান্ত ঘোষণা দেয়নি। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা দেশটির কৌশলগত হিসাব-নিকাশে পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইরান ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির দিকে এগিয়ে যায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

/এএসএফ