বৈরী আবহাওয়া ও অন্যান্য অনিবার্য কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কয়েকটি বিষয়ে অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য সম্ভাব্য পুনঃপরীক্ষার বিষয়ে আগামী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। একই সঙ্গে ২০ জুলাইয়ের পরিবর্তে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল চলতি জুলাই মাসের শেষ দিকে প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
শনিবার (১৮ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র এবং যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্র পরীক্ষায় যেসব শিক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়া বা অনিবার্য কারণে অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে কারা পুনঃপরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন, আবেদন কীভাবে গ্রহণ করা হবে এবং পরীক্ষা কী পদ্ধতিতে নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, আগামী সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বৈঠকের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হবে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পুনঃপরীক্ষার আয়োজন করা হলে আগ্রহী পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
সরকার এরই মধ্যে জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া বা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
অন্যদিকে, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল ২০ জুলাই প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও তা নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ করা হচ্ছে না। প্রশাসনিক ব্যস্ততা এবং চলমান এইচএসসি পরীক্ষা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ফল প্রকাশ কয়েক দিন পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে শিক্ষা বোর্ডগুলোর আশা, চলতি জুলাই মাসের শেষের দিকেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু চলমান পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে ফল প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে চলছে এবং চলতি মাসের মধ্যেই ফল প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান জানিয়েছেন, দাখিল পরীক্ষার ফল প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। স্থগিত পরীক্ষাগুলোর বিষয়ে আগামী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।
/এসএন