• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭ এএম


আজ কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম প্রয়াণ দিবস

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৯ জুলাই ২০২৬ ৩:১১ পিএম

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম প্রয়াণ দিবস আজ। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

মৃত্যুর এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তার সাহিত্য, নাটক ও চলচ্চিত্র আজও সমানভাবে পাঠক, দর্শক এবং অসংখ্য অনুরাগীর হৃদয়ে বেঁচে আছে।

নিজের লেখা একটি গানে হুমায়ূন আহমেদ লিখেছিলেন, ‘যদি মন কাঁদে, তুমি চলে এসো এক বরষায়’। সেই গানের আবহের মতোই বর্ষার দিনে তাকে স্মরণ করেন তার ভক্তরা। তার প্রিয় নুহাশ পল্লী কিংবা ধানমন্ডির ‘দখিন হাওয়া’ যেন এখনও বহন করে তার স্মৃতি।

হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত নেত্রকোণা মহুকুমার মোহনগঞ্জে তার মাতামহের বাড়িতে। তার বাবা শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদ ছিলেন সাহিত্যপ্রেমী মানুষ।

বাবার চাকরির কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় বসবাসের সুযোগ হয় তার। ফলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। ১৯৫৫ সালে সিলেটের কিশোরী মোহন পাঠশালায় (বর্তমান কিশোরী মোহন (বালক) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়। সেখানে তিনি ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।

পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালে তিনি বগুড়া জিলা স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৬৫ সালে সেখান থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। এরপর ঢাকা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে অধ্যয়ন করে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন এবং ৫৬৪ নম্বর কক্ষে অবস্থান করতেন।

প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পরপরই সাহিত্যাঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন হুমায়ূন আহমেদ। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় উপন্যাস রচনা করে তিনি বাংলা সাহিত্যে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে— শঙ্খনীল কারাগার, নন্দিত নরকে, মধ্যাহ্ন, জোছনা ও জননীর গল্প, মাতাল হাওয়া, লীলাবতী, কবি, বাদশাহ নামদার, ময়ূরাক্ষী, দেয়াল, অপেক্ষা, আমার আছে জল, প্রিয়তমেষু, সমুদ্র বিলাস, অয়োময়, দুই দুয়ারী, নীল অপরাজিতা, জল জোছনা, নবনী, যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ, ইস্টিশন এবং মীরার গ্রামের বাড়ী।

শুধু সাহিত্য নয়, টেলিভিশন নাটকেও তিনি সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য কালজয়ী কাজ। তার রচিত ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘বহুব্রীহি’, ‘অয়োময়’, ‘কোথাও কেউ নেই’ এবং ‘আজ রবিবার’ ধারাবাহিক নাটক দর্শকদের মধ্যে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

একই সঙ্গে নির্মাতা হিসেবেও তিনি উপহার দিয়েছেন বহু দর্শকপ্রিয় নাটক। তার নির্মিত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে— ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘উড়ে যায় বকপক্ষী’, ‘সেদিন চৈত্র মাস’, ‘নীতু তোমাকে ভালোবাসি’, ‘সমুদ্র বিলাস প্রাইভেট লিমিটেড’, ‘হাবলঙ্গের বাজারে’, ‘তারা তিন জন’ এবং ‘মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’।

/এসএন