• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম


বারবার খালি পেটে পেটব্যথা? অবহেলা না করে জেনে নিন চিকিৎসকদের পরামর্শ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৭ জুলাই ২০২৬ ৯:২৬ পিএম

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকেই খালি পেটে পেটে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া অনুভব করেন। কারও ক্ষেত্রে এই ব্যথা হালকা, আবার কারও ক্ষেত্রে বেশ তীব্র হয়। অনেক সময় এটি নিয়মিত ফিরে আসে। অনেকে একে সাধারণ গ্যাসের সমস্যা মনে করেন, আবার কেউ আলসারের আশঙ্কা করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, খালি পেটে পেটব্যথার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে এবং প্রতিটি কারণের লক্ষণ ও চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন।

অনেকেই খালি পেটে জ্বালাপোড়া বা ব্যথাকে সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বলে ধরে নেন। কিন্তু যদি খালি পেটে ব্যথা হয় এবং খাবার খাওয়ার পর তা কিছুটা কমে যায়, তাহলে এর পেছনে ডিওডেনাল আলসার থাকতে পারে।

ডিওডেনাম হলো ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশ, যা পাকস্থলীর সঙ্গে সংযুক্ত। এই অংশে ক্ষত বা ঘা সৃষ্টি হলে তাকে ডিওডেনাল আলসার বলা হয়। এটি একটি পরিচিত রোগ এবং যথাসময়ে চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুস্থ হওয়া সম্ভব।

ডিওডেনাল আলসারের অন্যতম প্রধান কারণ হলো হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি নামের একটি জীবাণুর সংক্রমণ। এছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন, ধূমপান, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণও এই রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে শুধু গ্যাস বা আলসারই নয়, খালি পেটে পেটব্যথার আরও নানা কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে গলব্লাডারে পাথর, প্যানক্রিয়াটাইটিস (অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ), গ্যাস্ট্রাইটিস (পাকস্থলীর দেয়ালের প্রদাহ), খাদ্য অ্যালার্জি, অ্যাসিড রিফ্লাক্স এবং মানসিক চাপজনিত সমস্যা।

গলব্লাডারের সমস্যায় সাধারণত পেটের ডান পাশে বেশি ব্যথা হয় এবং চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর সেই ব্যথা বাড়তে পারে। প্যানক্রিয়াটাইটিসে ব্যথা তীব্র হয় এবং পিঠের দিকে ছড়িয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে গ্যাস্ট্রাইটিস বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সে পেট ফাঁপা, ঘন ঘন ঢেঁকুর ওঠা এবং অম্বল অনুভূত হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তাও পাকস্থলীতে অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে খালি পেটে ব্যথার কারণ হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, সকালে দীর্ঘ সময় কিছু না খাওয়া বা পানি পান না করার কারণেও পাকস্থলীর অ্যাসিড ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ডায়েটিং করেন অথবা সকালের নাশতা এড়িয়ে যান, তাদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। দীর্ঘ সময় উপোস থাকলে পাকস্থলীর স্বাভাবিক সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অ্যাসিড পাকস্থলীর দেয়ালে প্রভাব ফেলে ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।

এ ধরনের ব্যথাকে অবহেলা না করে পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি। যদি ব্যথা নিয়মিত হয়, খাওয়ার সঙ্গে সম্পর্ক থাকে, একই ধরনের ব্যথা বারবার ফিরে আসে অথবা এর সঙ্গে ওজন কমে যাওয়া, বমি, রক্তবমি, কালো রঙের মল, ক্ষুধামান্দ্যসহ অন্য উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে আলট্রাসনোগ্রাফি, এন্ডোস্কোপি বা রক্ত পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলেও এই সমস্যা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানি পান, সময়মতো খাবার খাওয়া, অ্যালকোহল, চা-কফি ও অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান, মানসিক চাপ কমানো এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা পেটব্যথা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। প্রয়োজনে খাদ্যাভ্যাস ও ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিবর্তন আনা উচিত।

সবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, খালি পেটে পেটব্যথাকে সাধারণ গ্যাস্ট্রিক ভেবে শুধু ওষুধ খেয়ে সময় নষ্ট করা ঠিক নয়। সমস্যার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সব ধরনের পেটব্যথা গ্যাস্ট্রিকের কারণে হয় না। শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দিয়ে সময়মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করা গেলে ডিওডেনাল আলসারসহ অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

/এসএন