ট্রাম্পের দাবি, তাকে হত্যা করা হলে ‘ইরানকে ধ্বংসের’ নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন
ইরানের দাবি, দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যায় সরাসরি জড়িত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ কারণে ইরান তার হত্যার প্রতিশোধ নিতে ট্রাম্পকে লক্ষ্যবস্তু করতে চায়। এমন দাবি করেছেন ট্রাম্প নিজেই।
ট্রাম্প আরও বলেন, তাকে হত্যা করা হলে বা হত্যার চেষ্টা চালানো হলে ইরানের বিরুদ্ধে কীভাবে জবাব দিতে হবে, সে বিষয়ে তিনি আগেই মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন। তবে মার্কিন আইন অনুযায়ী, ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট বা সরকার সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে বাধ্য নন।
গত ১১ জুলাই বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট নিহত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে—এমন কোনো ‘ডেড ম্যানস সুইচ’ বা পূর্বনির্ধারিত প্রতিশোধমূলক সামরিক ব্যবস্থার অস্তিত্ব নেই।
কী এই ‘ডেড ম্যানস সুইচ’?
মার্কিন সাংবাদিক ও ইতিহাসবিদ গ্যারেট এম. গ্রাফ এপিকে বলেন, বিভিন্ন কারণে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করেনি।
এখানে ‘ডেড ম্যানস সুইচ’ বলতে এমন একটি ধারণাকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান নিহত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বড় ধরনের, এমনকি পারমাণবিক হামলার নির্দেশ কার্যকর হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো ব্যবস্থা নেই।
এ ধরনের ব্যবস্থার সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘পেরিমিটার’ বা ‘ডেড হ্যান্ড’ ব্যবস্থা। ১৯৮৫ সালের দিকে চালু হওয়া এই আধা-স্বয়ংক্রিয় প্রোটোকলের মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হলে প্রতিশোধমূলক পারমাণবিক হামলা চালানোর সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ৩১ জুলাই সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভও ‘ডেড হ্যান্ড’ ব্যবস্থার উল্লেখ করে দাবি করেন, প্রযুক্তিটি এখনো রাশিয়ার হাতে রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তা ব্যবহার করা যেতে পারে।
ট্রাম্পের দাবি কী?
ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য একটি ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডার’ বা স্থায়ী নির্দেশ রেখে গেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যদি তিনি ইরানি আততায়ীর হাতে নিহত হন, তাহলে সেই নির্দেশ অনুসারে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন সামরিক অভিযান চালাবে।
ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর দিকে ইতোমধ্যে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাক করে রাখা হয়েছে এবং আরও হাজারো ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তবে তিনি কোথাও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেননি। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প মূলত প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক শক্তি ব্যবহার করে আরও বড় ধরনের হামলার কথাই ইঙ্গিত করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরান বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে তাকে হত্যা করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছে এবং তিনি নিজেই সেই হুমকির লক্ষ্যবস্তু।
তিনি আরও বলেন, যদি ইরান সরকার সেই হুমকি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে, তাহলে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত।
ট্রাম্পের দাবি, তার দেওয়া এই নির্দেশ অন্তত এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে এবং প্রয়োজনে এর মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও সংবিধান অনুযায়ী, কোনো প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত নির্দেশ ভবিষ্যৎ প্রশাসনের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। ফলে ট্রাম্পের দাবিকৃত নির্দেশ বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হতে পারে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
সূত্র: এপি, রয়টার্স
/এএসএফ