বেলজিয়ামের বিপক্ষে হতাশাজনক হারের মধ্য দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দলের এই ব্যর্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন দেশটির নারী ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মেগান র্যাপিনো।
শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের আগে ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের খেলার যোগ্যতা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক, ট্রাম্পের প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ এবং লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ফিফার তাকে খেলার অনুমতি দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা হয়।
নিজের পডকাস্টে র্যাপিনো বলেন, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ পুরো প্রস্তুতি পর্বকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল করে তুলেছিল।
তার ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, এই বিভ্রান্তি দলকে প্রভাবিত করেছে। সেটা লাল কার্ডের ঘটনা হোক, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ, ফিফার সেটি হতে দেওয়া কিংবা পুরো পরিস্থিতিকে ঘিরে তৈরি হওয়া সার্কাস—সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল বিষয়টি দলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।’
তবে র্যাপিনো স্পষ্ট করেন, মাঠের প্রতিটি ভুলের জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করছেন না। তার মতে, ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ দুর্বল ছিল এবং দলটি খেলার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি। অন্যদিকে বেলজিয়াম ছিল অনেক বেশি সংগঠিত, শান্ত এবং কার্যকর।
এর আগে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগান। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার খেলার কথা ছিল না। কিন্তু তার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য প্রকাশ্যে ফিফার কাছে আবেদন জানান ট্রাম্প। পরে ফিফা বালোগানকে খেলার অনুমতি দিলে বিষয়টি নতুন বিতর্কের জন্ম দেয় এবং বেলজিয়ামের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
ম্যাচে চতুর্থ গোল করার পর রোমেলু লুকাকুসহ বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা ট্রাম্পের পরিচিত নাচের ভঙ্গি অনুকরণ করে উদযাপন করেন। এছাড়া বেলজিয়ামের সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকেও ‘এটা উল্টে দাও’ বার্তা দিয়ে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ব্যঙ্গ করা হয়।
র্যাপিনোর মতে, এসব ঘটনার প্রভাব দলের প্রস্তুতি ও মানসিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
/এএসএফ