গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় আহত ২০ জন ফিলিস্তিনি শিশুকে চিকিৎসার জন্য স্পেনে নেওয়া হয়েছে। ষষ্ঠ চিকিৎসা স্থানান্তর কর্মসূচির আওতায় শিশুদের তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেশটিতে আনা হয়েছে, যেখানে তারা বিভিন্ন হাসপাতালে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাবে। খবর মিডল ইস্ট মনিটর।
স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, যুদ্ধের বিভীষিকা পেছনে ফেলে চিকিৎসার আশায় শিশুরা স্পেনে এসেছে। তিনি বলেন, তারা সঙ্গে করে ভয় নিয়ে এলেও নতুন জীবনের আশাও নিয়ে এসেছে। এ উদ্যোগকে তিনি স্পেনের জন্য গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, গাজায় বিশেষ করে শিশুদের যে পরিস্থিতির মধ্যে থাকতে হচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, নতুন এই দলসহ এখন পর্যন্ত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ২০ জন শিশু এবং তাদের পরিবারের সদস্যসহ প্রায় ১০০ জন ফিলিস্তিনিকে আশ্রয় দিয়েছে স্পেন।
সানচেজ বলেন, আহতদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা স্পেনের নৈতিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, চিকিৎসা শেষে নিরাপদ পরিবেশে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার অধিকারও ফিলিস্তিনিদের নিশ্চিত করতে হবে।
গাজায় চলমান যুদ্ধের বিরোধিতায় স্পেন ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন–ইসরায়েল অংশীদারিত্ব চুক্তি স্থগিতের আহ্বান, তেল আবিব থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা এবং কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে মাদ্রিদ ও তেল আবিবের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক পদক্ষেপও দেখা গেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
/এএসএফ