• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৬ এএম


ফুটবল দেখে ফেরার পথে ৪২ ছাত্রের মৃত্যু: মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১৫ বছর পূর্ণ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৪ জুলাই ২০২৬ ৯:৩৩ পিএম

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনাগুলোর একটি ‘মিরসরাই ট্র্যাজেডি’র ১৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামী ১১ জুলাই। ২০১১ সালের এই দিনে ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২ শিক্ষার্থীসহ মোট ৪৫ জন প্রাণ হারান। সেই মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণে প্রতিবছরের মতো এবারও ১১ জুলাই ‘মিরসরাই ট্র্যাজেডি দিবস’ হিসেবে পালন করবে স্থানীয়রা।

সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর নিহতদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানাতে ছুটে গিয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ফলে ঘটনাটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

দিবসটি উপলক্ষে আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পবিত্র কোরআন খতম, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোকসভা এবং দোয়া মাহফিল। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার, নিহত শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

নিহত এক শিক্ষার্থীর বাবা নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘দেখতে দেখতে আদরের সন্তানকে হারানোর ১৫ বছর হয়ে গেল। স্বপ্ন ছিল একমাত্র সন্তানকে ডাক্তার বানাবো। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।’

আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘১১ জুলাই তারিখটি প্রতিবছর ফিরে আসে। কিন্তু মিরসরাইবাসীর কাছে এটি ফিরে আসে চাপা কান্না আর গভীর হাহাকার নিয়ে। এবারও সকাল ১০টায় নিহতদের স্মরণে “আবেগ” ও “অন্তিম” স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এরপর সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের হলরুমে শোকসভা অনুষ্ঠিত হবে।’

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১১ জুলাই মিরসরাই স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলা দেখে একটি মিনি ট্রাকে করে প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা আবুতোরাবে ফিরছিলেন। পথে বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের সৈদালী এলাকায় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের একটি ডোবায় পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বা পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪২ শিক্ষার্থীসহ মোট ৪৫ জনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের মধ্যে ছিলেন আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ৩৪ জন, আবুতোরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪ জন, আবুতোরাব ফাজিল মাদ্রাসার ২ জন, প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের ২ জন শিক্ষার্থী, একজন অভিভাবক এবং দুই যুবক।

নিহতদের স্মরণে ওই বছরই আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে ‘আবেগ’ এবং দুর্ঘটনাস্থলে ‘অন্তিম’ নামে দুটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়, যা আজও সেই শোকাবহ দিনের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

/এএসএফ