নানা কারণে মানুষের মেজাজ খারাপ হতে পারে। কাজের চাপ, শারীরিক ক্লান্তি কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানা অশান্তি থেকে তৈরি হতে পারে বিরক্তি ও খিটখিটে স্বভাব। মানুষের এমন স্বাভাবিক অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করেই প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর পালিত হয় খিটখিটে মেজাজ দিবস। বদমেজাজি আচরণের মজার দিক তুলে ধরার পাশাপাশি নিজের ও অন্যের অনুভূতি বুঝতে শেখাও দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।তবে দিবসটি পালনের অর্থ কাউকে তার স্বভাবের কারণে বিব্রত করা কিংবা উপহাস করা নয়। বরং হাস্যরসের মধ্য দিয়ে মানুষের ভিন্ন আচরণকে বোঝা এবং আবেগ প্রকাশের ক্ষেত্রে সহনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করাই এর মূল ভাবনা।খিটখিটে স্বভাবের প্রসঙ্গ এলে অনেকের মনেই ভেসে ওঠে জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘সেসামি স্ট্রিট’-এর অস্কার দ্য গ্রাউচের ছবি। ১৯৬৯ সালে আত্মপ্রকাশ করা এই চরিত্রটি তার গোমড়ামুখো আচরণ, বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করার প্রবণতা এবং আবর্জনার পাত্রে বসবাসের পছন্দের জন্য পরিচিত।সবুজ লোমশ এই চরিত্রটির আচরণে বিরক্তি ও অসন্তুষ্টির প্রকাশ থাকলেও কখনো কখনো তার কোমল দিকও দেখা যায়। বিচিত্র স্বভাবের কারণে অস্কার শিশুদের পাশাপাশি বড়দের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পরবর্তী সময়ে খিটখিটে মেজাজ দিবসের সঙ্গে চরিত্রটির নামও জড়িয়ে যায়।যেভাবে শুরু হয়েছিল দিবসটিখিটখিটে মেজাজ দিবস চালুর পেছনে রয়েছে একটি মজার ঘটনা। ১৯৭৬ সালে ‘চেজেস ক্যালেন্ডার অব ইভেন্টস’-এর প্রকাশক বিল ও হেলেন চেজ তাদের নাতনি মনিকার কাছ থেকে দিবসটি উদযাপনের ধারণা পান।সে সময় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত মনিকা। তার এক শিক্ষক ছিলেন বেশ খিটখিটে স্বভাবের। ওই শিক্ষকের জন্মদিন ছিল ১৫ অক্টোবর। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মজা করার সময়ই দিনটিকে খিটখিটে মেজাজ দিবস হিসেবে চিহ্নিত করার ভাবনা আসে মনিকার মাথায়। পরে সেই ধারণা পরিচিতি লাভ করে এবং দিনটি উদযাপনের প্রচলন গড়ে ওঠে।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দিবসটি সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়তে থাকে। অস্কার দ্য গ্রাউচের মতো জনপ্রিয় চরিত্রের মাধ্যমে খিটখিটে স্বভাবের হাস্যরসাত্মক দিকটিও আরও বেশি আলোচনায় আসে।যেভাবে কাটাবেন দিনটিখিটখিটে মেজাজ দিবস পালনের জন্য বিশেষ কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। বন্ধুদের সঙ্গে মজার গল্প করা, পরিচিত কোনো খিটখিটে চরিত্রের হাস্যকর আচরণ স্মরণ করা কিংবা ‘সেসামি স্ট্রিট’-এর পুরোনো পর্ব দেখার মধ্য দিয়ে দিনটি উপভোগ করা যেতে পারে।তবে হাসি-ঠাট্টার নামে কাউকে অপমান করা কিংবা তার অনুভূতিতে আঘাত করা উচিত নয়। মজা তখনই আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে, যখন তা সবার জন্য স্বস্তিদায়ক থাকে এবং কারও আত্মসম্মানে আঘাত করে না।দিবসটি নিজের আবেগ বোঝারও একটি সুযোগ তৈরি করে। কোনো কারণে বিরক্তি অনুভব করলে সেই অনুভূতির পেছনে কী কারণ কাজ করছে, তা বোঝার চেষ্টা করা যেতে পারে। প্রয়োজনে কিছুটা বিরতি নেওয়া, শান্তভাবে কথা বলা কিংবা বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে মনের কথা ভাগ করে নেওয়া সহায়ক হতে পারে।সব সময় হাসিখুশি থাকার চাপ নয়খিটখিটে মেজাজ দিবসের অন্যতম বার্তা হলো, সব সময় হাসিমুখে থাকার চাপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। রাগ, বিরক্তি কিংবা মন খারাপ মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতির অংশ। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব অনুভূতি কীভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে এবং তার প্রভাব অন্যের ওপর কেমন পড়ছে।নিজের মনের অবস্থা বোঝার পাশাপাশি অন্যের অনুভূতিকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। বিরক্তি প্রকাশের সময় সংযত থাকা এবং মতের অমিল হলেও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা সম্পর্ককে সুন্দর রাখতে সাহায্য করে।তাই ১৫ অক্টোবর নিজের অনুভূতি বোঝার জন্য কিছুটা সময় বের করুন। মন ভালো না থাকলে জোর করে হাসার প্রয়োজন নেই। বরং নিজের আবেগকে স্বীকার করুন, বিরক্তির কারণ বোঝার চেষ্টা করুন এবং অন্যের প্রতিও সহানুভূতিশীল থাকুন।
/বিএসএস