শৈশবে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও জীবনপথ বদলে গেছে এক বাংলাদেশি কিশোরীর। ইউটিউবে একটি বিমান দুর্ঘটনার ভিডিও দেখার পরই আকাশপথের প্রতি জন্ম নেয় তার গভীর আগ্রহ। সেই আগ্রহই তাকে আজ নিয়ে গেছে পাইলট হওয়ার পথে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এভা ছোয়া ছোটবেলা থেকেই মেডিকেল পেশা নিয়ে আগ্রহী ছিল। পরিবারও আশা করেছিল, একদিন সে ডাক্তার হবে। তবে মাত্র ১০ বছর বয়সে ইউটিউবে একটি বিমান দুর্ঘটনার ভিডিও তার চিন্তাধারায় বড় পরিবর্তন আনে। বিশেষ করে দুর্ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া তাকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে। সেখান থেকেই তার মধ্যে উড়োজাহাজ ও আকাশ নিয়ে নতুন স্বপ্নের সূচনা হয়।

উচ্চমাধ্যমিকে ওঠার পর একসময় অ্যানেসথেসিওলজিস্ট হওয়ার কথাও ভেবেছিল সে। তবে ধীরে ধীরে বুঝতে পারে, চিকিৎসা পেশা তার জন্য নয়। বরং বিমান চালানো ও এভিয়েশন জগতের প্রতি তার আগ্রহই বেশি। এই উপলব্ধিই তাকে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে সাহস জোগায়।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে এভা তার পরিবারকে জানায়, সে পাইলট হতে চায়। শুরুতে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও মেয়ের দৃঢ়তা দেখে পরিবার তাকে সমর্থন দেয়। পরে লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসরত বাংলাদেশি ফ্লাইট ইনস্ট্রাক্টর অ্যালেন ইলিয়াস খানের সঙ্গে তার প্রশিক্ষণ শুরু হয়।
প্রশিক্ষণের শুরু থেকেই এভা দেখিয়েছে অসাধারণ আগ্রহ। নিয়মিত ফ্লাইট ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি সে গ্রাউন্ড স্কুলে বিমান চালনার তত্ত্ব, নেভিগেশন, আবহাওয়া বিশ্লেষণ এবং নিরাপত্তাবিষয়ক বিভিন্ন বিষয় শেখে। বিশেষ করে বিমান অবতরণ শেখাটা ছিল তার জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং, যা আয়ত্ত করতে তার প্রায় দুই মাস সময় লাগে।
ক্রমাগত অনুশীলন ও নিষ্ঠার মাধ্যমে সে দ্রুত দক্ষতা অর্জন করে। অবশেষে ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ, নিজের ১৬তম জন্মদিনেই সে সম্পন্ন করে প্রথম একক উড্ডয়ন বা ‘সোলো ফ্লাইট’। প্রশিক্ষক ছাড়াই একা বিমান চালিয়ে সফলভাবে তিনটি টেকঅফ ও ল্যান্ডিং সম্পন্ন করে সে।
নিজের এই অর্জন নিয়ে এভা জানায়, স্বপ্ন দেখার সাহস থাকতে হবে এবং সেটি বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। বিশেষ করে মেয়েদের উদ্দেশে সে বলেছে, নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে ভয় না পাওয়ার জন্য।
এভার এই সাফল্যে গর্বিত তার পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি। তার প্রশিক্ষক জানান, এ অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও অনুপ্রেরণার বিষয়।

ভবিষ্যতে এভা এভিয়েশনে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি পাইলট হিসেবে আরও দক্ষতা অর্জন করতে চায়। তার চূড়ান্ত লক্ষ্য—একজন পেশাদার এয়ারলাইনস পাইলট হওয়া।