• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৮ পিএম


তদন্তের মুখে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন, দুটি ম্যাচে সন্দেহের তীর

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৪ জুলাই ২০২৬ ১২:৫৫ পিএম

দীর্ঘ ১৬ বছর পর অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নামা শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে স্প্যানিশরা। তবে এই সাফল্যের আনন্দের মধ্যেই দলটির দুটি ম্যাচকে ঘিরে সন্দেহজনক বেটিংয়ের অভিযোগ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, স্পোর্টিং ইভেন্টে সম্ভাব্য ম্যাচ পাতানো প্রতিরোধে কাজ করা স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্রুপ অব কোপেনহেগেন বিশ্বকাপের সাতটি ম্যাচকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব ম্যাচের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে ফিফার কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে সংস্থাটি। চিহ্নিত ম্যাচগুলোর মধ্যে রয়েছে স্পেনের দুটি ম্যাচও।বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই নকআউট পর্বে উঠে ইতিহাস গড়া কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেনের গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্ম পলি-মার্কেট-এ এই ম্যাচ নিয়ে ব্যাপকভাবে বাজি ধরা হয়েছিল যে স্পেন কেপ ভার্দেকে হারাতে পারবে না। বিষয়টি এখন তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে।এ ছাড়া সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে স্পেনের ফরোয়ার্ড ফেররান তোরেসের একটি গোল বাতিল করতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) যে দীর্ঘ সময় নিয়েছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এই ফেররান তোরেসই ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একমাত্র গোলটি করে স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতান।তদন্তকারীরা এসব ম্যাচকে ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ বা হলুদ সতর্কতার আওতায় রেখেছেন। অস্বাভাবিক বেটিং কার্যক্রম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজবের বিস্তার কিংবা তথ্যের অস্বাভাবিক আদান-প্রদান দেখা গেলে এমন সতর্কতা জারি করা হয়।চার ধাপের সতর্কতা ব্যবস্থায় সবুজ ধাপকে স্বাভাবিক অবস্থা হিসেবে ধরা হয়।

এরপর রয়েছে হলুদ (সামান্য উচ্চ সতর্কতা), কমলা (উচ্চ সতর্কতা) এবং লাল (সর্বোচ্চ সতর্কতা)। স্পেনের ম্যাচগুলো বর্তমানে হলুদ সতর্কতার আওতায় রয়েছে।গ্রুপ অব কোপেনহেগেনের সাবেক সহযোগী ও বিশেষজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ান কালব দ্য অ্যাথলেটিককে বলেন, এমন সতর্কতা জারি হওয়া মানেই ম্যাচ পাতানো বা জালিয়াতির প্রমাণ নয়। তার ভাষ্য, বেটিং মার্কেটের তারল্য, কোটার পরিবর্তন কিংবা অন্যান্য অস্বাভাবিক বাজারগত কারণেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার মাত্র দুই দিন পর ফিফা জানিয়েছিল, পুরো টুর্নামেন্টে সন্দেহজনক বেটিং বা ম্যাচ পাতানোর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তাদের হাতে আসেনি। একই অবস্থানের কথা জানিয়েছে গ্রুপ অব কোপেনহেগেনও। তবে সরাসরি কারচুপির প্রমাণ না মিললেও সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত ম্যাচগুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সংস্থাটি।স্পেনের পাশাপাশি টুর্নামেন্টের আরও কয়েকটি ম্যাচও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে।

এর মধ্যে রয়েছে মেক্সিকোর বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড় থেম্বা জোয়ানের লাল কার্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনকে ঘিরে অস্বাভাবিক বেটিংয়ের ঘটনা। বালোগুন বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে পরের ম্যাচে নিষিদ্ধ হলেও, তার বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার সম্ভাবনা নিয়েও অস্বাভাবিকভাবে বাজি ধরা হয়েছিল। বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

/বিএসএস