• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৬ এএম


সাফজয়ী সুলিভান ভাইদের গল্প, বাংলাদেশের হয়ে খেলার পেছনের কাহিনি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৭ আগস্ট ২০২৬ ১২:২৮ পিএম

মার্চ-এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আলোচনায় উঠে আসেন যমজ দুই ভাই রোনান সুলিভান ও ডেকলান সুলিভান। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে ফাইনালের টাইব্রেকারে রোনানের অসাধারণ পানেনকা পেনাল্টি গোল এবং দুই ভাইয়ের নৈপুণ্যে বাংলাদেশ জিতে নেয় বয়সভিত্তিক সাফের শিরোপা। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজেদের নানা অভিজ্ঞতা ও পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে কথা বলেছেন ফিলাডেলফিয়ার এই দুই তরুণ।

যেভাবে বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ

জীবনে কখনো বাংলাদেশে না এলেও জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়ার গল্পটি বেশ রোমাঞ্চকর রোনান ও ডেকলানের। ‘সেভ বাংলাদেশ ফুটবল’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথমে তাদের কাছে একটি মেসেজ আসে। বিষয়টি দেখে শুরুতে কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন তারা। পরে বুঝতে পারেন, অ্যাকাউন্টটি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে কাজ করা একটি বৈধ প্ল্যাটফর্ম।

এরপর বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিমের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তাদের। কলেজে যাওয়ার আগের সময়টাকে কাজে লাগানোর সুযোগ হিসেবেই বাংলাদেশের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন দুই ভাই।

তবে বাংলাদেশের পাসপোর্ট সংগ্রহ করাই ছিল তাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ তাদের মায়ের নিজের কোনো বাংলাদেশি পাসপোর্ট ছিল না। নানা প্রক্রিয়া ও ধাপ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত মার্চে নিউইয়র্ক ও দিল্লি হয়ে ঢাকায় পৌঁছান রোনান ও ডেকলান।

বাংলাদেশের হয়ে সাফ জয়ের পর দেশের মানুষের ভালোবাসা, ফুলেল শুভেচ্ছা এবং চারপাশের উচ্ছ্বাস তাদের কাছে ছিল সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা। আমেরিকার যুব ফুটবলে পাওয়া অভিজ্ঞতার সঙ্গে বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতার কোনো মিল নেই বলেও তারা উল্লেখ করেছেন।

ফাইনালের পানেনকা নিয়ে যা বললেন দুই ভাই

ভারতের বিপক্ষে ফাইনালের টাইব্রেকারে রোনান সুলিভানের নেওয়া আলোচিত ‘পানেনকা’ পেনাল্টি নিয়েও কথা বলেছেন তারা। ভাই ডেকলান জানান, রোনান যে পানেনকা শট নেবেন, সেটি তিনি আগে থেকেই জানতেন। কারণ এমন শট নেওয়া রোনানের স্বভাবসুলভ স্টাইল।

অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে বিদেশি ফুটবলার হিসেবে যোগ দেওয়ার পর শুরুর সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রোনান জানান, কিছুটা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েই তাদের মানিয়ে নিতে হয়েছিল। ভাষা না জানা এবং শুরুতে কিছুটা বিরূপ মনোভাবের কারণে স্থানীয় সতীর্থদের কাছ থেকে পাস পাওয়া কঠিন ছিল।

তবে মাঠে নিজেদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা সেই দূরত্ব কমিয়ে আনেন। নিজেদের খেলার মাধ্যমে সতীর্থদের আস্থা অর্জন করেন এবং দলের মধ্যে নিজেদের জায়গা তৈরি করে নেন।

সুলিভান ভাইদের সাফল্যের প্রভাব

সুলিভান ভাইদের সাফজয়ের পর ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভালো একাডেমিতে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অনেক ফুটবলার এখন বাংলাদেশের হয়ে খেলার ব্যাপারে আগ্রহী হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

/এসএন