২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। তবে ট্রফি জয়ের আনন্দের পাশাপাশি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরেকটি বিষয় সবার নজর কাড়ে। জাতীয় পতাকার বদলে অনেক স্প্যানিশ ফুটবলারের হাতে দেখা যায় ভিন্ন ভিন্ন রঙ ও নকশার পতাকা, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবো জানিয়েছে, স্পেনের ফুটবলাররা বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ উদযাপন করেছেন নিজেদের জন্মস্থান বা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের পতাকা হাতে নিয়ে। এর মাধ্যমে তারা নিজ নিজ অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং আঞ্চলিক পরিচয়ের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।
মিডফিল্ডার পেদ্রির হাতে ছিল কানারি দ্বীপপুঞ্জের পতাকা। ফাইনালের একমাত্র গোলদাতা ফেরান তোরেস উদযাপন করেন ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের পতাকা নিয়ে। স্ট্রাইকার বোর্হা ইগলেসিয়াস বহন করেন গালিসিয়ার পতাকা। এছাড়া ডানি ওলমো ও অ্যালেক্স বায়েনা যথাক্রমে তেরাসা এবং রোকেতাস দে মার এলাকার পতাকা হাতে ট্রফি উৎসবে অংশ নেন। প্রত্যেকেই নিজেদের শেকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই প্রতীকী উদ্যোগ নেন।
এই ব্যতিক্রমী উদযাপনের পেছনে রয়েছে স্পেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস। পঞ্চদশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যে আইবেরীয় উপদ্বীপের একাধিক স্বাধীন রাজ্য ধীরে ধীরে একীভূত হয়ে আধুনিক স্পেন রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। ফলে একই দেশের নাগরিক হলেও বিভিন্ন অঞ্চলের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরিচয় আজও অত্যন্ত শক্তিশালী।
১৯৭৮ সালের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর স্পেনকে ১৭টি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল (Autonomous Communities) এবং দুটি স্বায়ত্তশাসিত শহরে ভাগ করা হয়। প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব সরকার, প্রশাসনিক কাঠামো, সংসদ এবং সরকারি পতাকা রয়েছে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বড় সাফল্যের পর অনেক স্প্যানিশ ক্রীড়াবিদ জাতীয় পতাকার পাশাপাশি নিজেদের আঞ্চলিক পতাকাও বহন করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি জাতীয় পরিচয়ের বিপরীতে কোনো অবস্থান নয়; বরং স্পেনের বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যেরই প্রতিফলন। বিশ্বকাপ জয়ের মতো ঐতিহাসিক মুহূর্তে জাতীয় গৌরবের পাশাপাশি নিজের জন্মভূমি ও আঞ্চলিক শিকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই স্প্যানিশ ফুটবলাররা এই প্রথা অনুসরণ করেন।
সূত্র: গ্লোবো (ব্রাজিল)
/এএসএফ