এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিয়েছে ৪৮টি দল। তবে বাছাইপর্বে বিশ্বের প্রায় সব দেশের জাতীয় দল অংশগ্রহণ করেছে। বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত আয়ের একটি অংশ সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যয় করে ফিফা। সেই তহবিল থেকে বাংলাদেশও অর্থ সহায়তা পাবে।
২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে এবার রেকর্ড পরিমাণ ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করেছে ফিফা। যা ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি।
ফিফার ঘোষিত পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী, গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল পেয়েছে ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বকাপজয়ী দল পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার, রানার্সআপ ৩৩ মিলিয়ন ডলার, তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল ২৯ মিলিয়ন ডলার এবং চতুর্থ হওয়া দল পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার।
এ ছাড়া কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল পেয়েছে ২০ মিলিয়ন ডলার করে। শেষ ষোলোর দলগুলোর জন্য বরাদ্দ ছিল ১৬ মিলিয়ন ডলার এবং দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পেয়েছে ১২ মিলিয়ন ডলার করে। পাশাপাশি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলকে প্রস্তুতি ও যাতায়াত ব্যয়ের জন্য অতিরিক্ত আড়াই মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় ফুটবলার জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু বলেন, ‘যখন দলের সংখ্যা বাড়ানো হয় তখন অন্যান্য দলগুলোও উৎসাহিত হবে এই ভেবে যে–আমারও হয়তো সুযোগ রয়েছে। এশিয়া কিংবা আফ্রিকার দিকে দেখলে দেখা যাবে। দলের সংখ্যা যেহেতু বাড়ছে, সেহেতু কোয়ালিফাই করার জন্য প্রতিযোগিতাটাও বাড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপ থেকে ফিফা যে আয় করে, তার একটি অংশ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। যেমন বড় শো, প্রাইজ মানিও আকাশ ছোঁয়া। এবার সব মিলিয়ে ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। লভ্যাংশ থেকে ফিফা সব দেশকেই অর্থনৈতিক সহযোগিতা করবে। গেইম ডেভেলপমেন্টের জন্য বাংলাদেশও বিশ্বকাপ শেষে পাবে বড় অঙ্কের টাকা।’
এদিকে মাঠের পারফরম্যান্সেও এবারের বিশ্বকাপ ইতোমধ্যে নতুন ইতিহাস গড়েছে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মোট ২৯৭টি গোল হয়েছে। সর্বোচ্চ আটটি করে গোল করেছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে।
আগামী রোববার (১৯ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালের পরই নির্ধারিত হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের নাম। একই সঙ্গে ঘোষণা করা হবে আসরের সেরা খেলোয়াড়সহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম।
/এসএন