আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে নরওয়ে। সমর্থকদের প্রতিবাদ কিংবা খেলোয়াড়দের বক্তব্যের গণ্ডি পেরিয়ে এবার ফুটবলের আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ওপর প্রাতিষ্ঠানিক চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি।ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যম পলিটিকো প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ইউরোপের বড় দলগুলোর তুলনায় নরওয়ের ফুটবল ইতিহাস খুব বেশি সমৃদ্ধ না হলেও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে তাদের অবস্থান এখন ইউরোপীয় ফুটবলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত।
ইসরায়েলকে ফিফা থেকে বহিষ্কারের দাবিতে দেশটি কূটনৈতিক ও সাংগঠনিক দুই পর্যায়েই সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।গত অক্টোবরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নরওয়ে ও ইসরায়েলের ম্যাচের আগে নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ঘোষণা দেয়, ম্যাচ থেকে প্রাপ্ত অর্থ গাজায় মানবিক সহায়তার জন্য দেওয়া হবে। ওই ম্যাচে গ্যালারিজুড়ে ফিলিস্তিনি পতাকা, কেফিয়া এবং ‘শিশুদের বাঁচতে দাও’ লেখা ব্যানার দেখা যায়। ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত বাজানোর সময়ও অনেক সমর্থক প্রতিবাদ জানান।তবে নরওয়ের মূল উদ্যোগ মাঠের প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
দেশটির ফুটবল ফেডারেশন নিজেদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ফিফা এবং ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে নরওয়ের সম্পৃক্ততা নতুন নয়। ১৯৯০-এর দশকে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে আলোচনার মধ্যস্থতায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, যার মাধ্যমে অসলো চুক্তির পথ তৈরি হয়।এবার সেই কূটনৈতিক অবস্থানই ফুটবলেও প্রতিফলিত হচ্ছে। নরওয়ের যুক্তি, ইউক্রেনে আগ্রাসনের কারণে যেভাবে রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, একই নীতি ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা উচিত।
ইসরায়েলকে ফিফা থেকে বহিষ্কারের দাবি প্রথম তোলে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। গাজার পরিস্থিতি, আরব খেলোয়াড়দের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিতে অবস্থিত ফুটবল ক্লাবগুলোর কার্যক্রম নিয়ে তারা আপত্তি জানায়। পরে আরব ও এশিয়ার কয়েকটি ফুটবল সংস্থাও এই দাবির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে।নরওয়ের সমর্থন পাওয়ার পর বিষয়টি ইউরোপীয় ফুটবলের মূল আলোচনায় আরও গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিস ক্লাভেনেজ এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান মুখ। সাবেক জাতীয় দলের এই ফুটবলার ও আইনজীবী বর্তমানে উয়েফার নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে মানবাধিকার ও স্বচ্ছতার পক্ষে অবস্থানের জন্য পরিচিত।নরওয়ের খেলোয়াড়রাও ফিলিস্তিন ইস্যুতে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন।
অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড বলেছেন, গাজার পরিস্থিতিকে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচের প্রেক্ষাপট থেকে আলাদা করে দেখা সম্ভব নয়। অন্যদিকে দলের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডও অতীতে গাজায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছিলেন।তবে ইসরায়েলকে ফিফা থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিষয়টি ঘিরে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে।
/বিএসএস