বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-০ গোলে হারের পর ম্যাচের রেফারিং নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তুলেছে আলজেরিয়া। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটি ফিফার রেফারিং কমিশনের কাছে একটি অভিযোগপত্র পাঠিয়েছে।
অভিযোগে বিশেষভাবে প্রথমার্ধের একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি আলজেরিয়ার অধিনায়ক ঈসা মান্দির পায়ের পেশিতে বুট দিয়ে আঘাত করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
আলজেরিয়ার মতে, মেসি পেছন থেকে বুট উঁচিয়ে সরাসরি মান্দির পায়ে আঘাত করলেও রেফারি কোনো কার্ড দেখাননি। এ সময় আলজেরিয়ার সমর্থকেরা মেসিকে মাঠ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। পরে ম্যাচে আরও দুই গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি।
আলজেরিয়ার অভিযোগের আরেকটি অংশে বলা হয়েছে, কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার কনুই দিয়ে ইব্রাহিম মাজার মুখে আঘাত করেন। তবে ম্যাচ পরিচালনাকারী পোল্যান্ডের রেফারি সাইমন মারচিনিয়াক ওই ঘটনাকে উপেক্ষা করেন।
আলজেরীয় কর্মকর্তাদের দাবি, ঘটনাটি রেফারির খুব কাছেই ঘটেছিল এবং তিনি সেটি দেখার অবস্থানে ছিলেন। তারপরও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এই অভিযোগের পর মারচিনিয়াক এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) দলের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিএআর টিমে ছিলেন তার স্বদেশী তোমাস কুইয়াতকোভস্কি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মেসির ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক ফুটবলপ্রেমীর প্রশ্ন, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হওয়ার কারণেই কি মেসি শাস্তি এড়াতে পেরেছেন?
বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুসও। মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পর তার দলের মিডফিল্ডার থেম্বা জোয়ানের নিষেধাজ্ঞা তিন ম্যাচে বাড়ানো হয়। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি মেসির ঘটনার উদাহরণ টানেন।
হুগো ব্রুস বলেন, ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় মেক্সিকোর খেলোয়াড় তার খেলোয়াড়কে আটকে রেখেছিল। জোয়ানে কেবল তার ওপর দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অথচ সেই ঘটনার জন্য লাল কার্ড এবং তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি বলছি না মেসির লাল কার্ড পাওয়া উচিত ছিল। কারণ তার মতো একজন খেলোয়াড় মাঠে থাকলে খেলা আরও আকর্ষণীয় হয়। তবে জোয়ানের ঘটনার সঙ্গে মেসির ঘটনার পার্থক্য কোথায় ছিল, সেটাই আমার প্রশ্ন।”
সূত্র: রয়টার্স
/এএসএফ