হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নতুন এক ট্রেন্ড। অনেকের স্মার্টফোনের কাভারের ভেতরে এখন শুকনো তেজপাতা রাখতে দেখা যাচ্ছে। শুধু তেজপাতা রাখার মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি ও ইতিবাচকতার নানা দাবিও ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইনে।
এই ট্রেন্ড অনুসরণকারীদের অনেকের বিশ্বাস, ফোনের কাভারের ভেতরে তেজপাতা রাখলে জীবনে সৌভাগ্য আসে, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাড়ে এবং ইতিবাচকতা তৈরি হয়। আবার কারও কারও ধারণা, তেজপাতা নেতিবাচক শক্তি দূরে রাখতেও সহায়তা করে।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, স্মার্টফোনের কাভারে তেজপাতা রাখলেই কি সত্যিই ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে? নাকি এটি কেবল লোকবিশ্বাস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নতুন একটি ট্রেন্ড?
তেজপাতাকে সৌভাগ্য ও সাফল্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করার ধারণা অবশ্য নতুন নয়। প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সংস্কৃতিতে তেজপাতা বিজয়, জ্ঞান ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বিজয়ীদের সম্মান জানাতে তেজপাতার মুকুট ব্যবহারের প্রচলনও ছিল।
পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে তেজপাতার সঙ্গে সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি ও সুরক্ষার ধারণা যুক্ত হয়। সেই বিশ্বাস থেকেই অনেকে তেজপাতা সঙ্গে রাখার অভ্যাস গড়ে তোলেন।
বর্তমানে স্মার্টফোন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। যোগাযোগ, কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন কাজ, কেনাকাটা থেকে শুরু করে আর্থিক লেনদেন—অনেক ক্ষেত্রেই এখন ফোনের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে ফোনের সঙ্গে তেজপাতা রাখাকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখার প্রবণতাও তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফোনের কাভারের ভেতরে তেজপাতা রেখে ছবি ও ভিডিও প্রকাশের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ভারতীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যেও এই ট্রেন্ড বেশ আলোচনায় এসেছে।
ফোনের কাভারে তেজপাতা রাখলে ভাগ্য বদলে যাবে, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে কিংবা নেতিবাচক শক্তি দূর হবে—এমন দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
অর্থাৎ, তেজপাতাকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা মূলত বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত আস্থার বিষয়। কারও ক্ষেত্রে এটি মানসিকভাবে ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি করতে পারে। তবে ভাগ্য পরিবর্তন বা আর্থিক সাফল্যের সঙ্গে তেজপাতার সরাসরি কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রেন্ড অনুসরণ করে ফোনের কাভারের ভেতরে তেজপাতা রাখতে চাইলে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
সম্পূর্ণ শুকনো তেজপাতা ব্যবহার করা উচিত। একই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে, পাতাটি যেন ফোনের ক্যামেরা, স্পিকার, চার্জিং পোর্ট বা কোনো বোতামের ওপর না পড়ে।
অতিরিক্ত মোটা কিংবা বড় আকারের পাতা ব্যবহার করে ফোনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করা ঠিক নয়। তেজপাতা ভেঙে গুঁড়া হয়ে গেলে সেটিও দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। পাশাপাশি ফোনের কাভারের ভেতরে যেন ধুলো বা আর্দ্রতা জমে না থাকে, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।
সব মিলিয়ে, ফোনের কাভারের ভেতরে তেজপাতা রাখা নিছক একটি মজার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রেন্ড হতে পারে, আবার কারও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অংশও হতে পারে। তবে এটিকে ভাগ্য পরিবর্তন কিংবা অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে দেখার কোনো ভিত্তি নেই।
ভাগ্য পরিবর্তনের সহজ কোনো শর্টকাট নেই। সাফল্যের জন্য প্রয়োজন পরিশ্রম, সঠিক পরিকল্পনা ও অধ্যবসায়।
/এসএন