নিজের জমির এক কোণে কৃষকের ছোট্ট মসজিদ, উপকার পাচ্ছেন পথচারী ও কৃষকেরাপটুয়াখালীর এক গ্রামের কৃষক আবদুল করিম নিজের জমির এক কোণে ছোট্ট একটি মসজিদ তৈরি করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নামাজ আদায়ের পাশাপাশি কৃষক ও পথচারীদের বিশ্রাম এবং আশ্রয়ের সুযোগ করে দিয়েছে তার এই উদ্যোগ।প্রতিদিন ভোরে নিজের জমিতে কাজ করতে যান আবদুল করিম। তার চারপাশে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত, কাঁচা রাস্তা এবং দূরে দূরে মানুষের বসতি। জমির পাশ দিয়ে নিয়মিত কৃষক, শ্রমিক ও পথচারীদের যাতায়াত রয়েছে।একদিন দুপুরে তিনি দেখতে পান, কয়েকজন পথচারী ছায়ার অভাবে একটি গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। তাদের একজন তখন বলেন, সেখানে যদি বসার জায়গার পাশাপাশি নামাজের ব্যবস্থা থাকত, তাহলে অনেকেরই উপকার হতো।কথাটি কৃষক আবদুল করিমের মনে গভীরভাবে দাগ কাটে। পরদিন থেকেই তিনি নিজের জমির এক কোণে একটি ছোট টিনের ছাউনি তৈরি করেন। পরে ধীরে ধীরে সেটিকে ছোট একটি মসজিদের রূপ দেন।মসজিদটি আকারে ছোট এবং কোনো ধরনের আড়ম্বর নেই। তবে সেখানে রয়েছে পরিষ্কার মেঝে, অজুর জন্য পানির ব্যবস্থা এবং পথচারী ও কৃষকদের কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ।আবদুল করিমের এমন উদ্যোগ দেখে গ্রামের অনেকেই অবাক হন। কেউ কেউ তাকে প্রশ্ন করেন, নিজের চাষের জমির জায়গা কমিয়ে তিনি কেন সেখানে মসজিদ তৈরি করেছেন।জবাবে কৃষক মৃদু হেসে বলেন, ‘জমি থেকে ফসল পাওয়া যায়, কিন্তু মানুষের উপকারে লাগলে সেই আনন্দ আলাদা।’এরপর থেকে মাঠে কাজের ফাঁকে অনেক কৃষক সেখানে এসে বিশ্রাম নেন। রোদ কিংবা বৃষ্টির সময় পথচারীরাও ছোট্ট সেই স্থানে আশ্রয় নেন। কেউ অজু করেন, আবার কেউ কিছুক্ষণ নীরবে বসে সময় কাটান।এভাবে ছোট্ট মসজিদটি ধীরে ধীরে শুধু ইবাদতের স্থান হিসেবে নয়, মানুষের জন্য স্বস্তি ও আশ্রয়ের জায়গা হিসেবেও পরিচিত হয়ে উঠেছে।আবদুল করিমের এই উদ্যোগ মনে করিয়ে দেয়, মানুষের উপকার করার জন্য সব সময় বড় সম্পদ বা বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। সামান্য জায়গা ও আন্তরিক ইচ্ছা দিয়েও অনেক মানুষের উপকার করা সম্ভব। সহমর্মিতা, ভাগাভাগি এবং নীরব দায়িত্ববোধের এমন ছোট ছোট উদ্যোগই সমাজকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে।
/বিএসএস