• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৩ এএম


টানা বৃষ্টিতে কাদায় ডুবেছে পশুর হাট, বিক্রি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় বিক্রেতারা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৬ মে ২০২৬ ৫:২২ পিএম

রাজধানীর অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটগুলোতে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে তৈরি হয়েছে চরম ভোগান্তি। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও জমে থাকা পানিতে পশু দাঁড় করিয়ে রাখতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে বিক্রেতাদের। কাদা, দুর্গন্ধ ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষই পড়েছেন দুর্ভোগে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীর ধোলাইখাল, ধূপখোলা মাঠ ও আরমানিটোলা খেলার মাঠসহ কয়েকটি পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ হাটেই কাদার কারণে স্বাভাবিক চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে পানি জমে থাকায় পশু রাখার জায়গা সংকুচিত হয়ে গেছে। বৃষ্টিতে পশুর খাবার নষ্ট হচ্ছে, পাশাপাশি রাতে পশু পাহারা দিতেও বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

ঈদুল আজহা সামনে রেখে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাজধানীর হাটগুলোতে গরু ও অন্যান্য পশু আসছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। এতে কাঙ্ক্ষিত বেচাকেনা না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গরু ব্যবসায়ীরা।

হাট সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে বড় গরুর তুলনায় মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ৮০ হাজার টাকা থেকে দেড় লাখ টাকার গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। তবে দরদামে মিল না হওয়ায় অনেক ক্রেতাই পশু না কিনে ফিরে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে কেনাবেচায় আরও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

ধূপখোলা পশুর হাটে কুষ্টিয়া থেকে আসা ব্যবসায়ী আবদুল হালিম বলেন, “তিন দিন ধরে বৃষ্টি। হাটে মানুষ কম আসছে। খরচ বাড়ছে, কিন্তু গরু বিক্রি হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত অর্ধেক গরুও বিক্রি করতে পারিনি।”

একই হাটে আসা ক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, “কাদার কারণে পরিবার নিয়ে হাটে আসা কঠিন হয়ে গেছে। গরু দেখতেও সমস্যা হচ্ছে। দামও এখনো অনেক বেশি চাচ্ছেন বিক্রেতারা।”

ধোলাইখাল পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, অনেক বিক্রেতা প্লাস্টিকের ত্রিপল টাঙিয়ে পশু ঢেকে রাখছেন। বৃষ্টির পানিতে খড় ও পশুখাদ্য ভিজে যাওয়ায় অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, হাটে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যাচ্ছে।

লক্ষ্মীবাজারের বাসিন্দা মো. গাফফার খান গরু কিনতে ধোলাইখাল হাটে এসে বাংলানিউজকে বলেন, “গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গরুর হাটের অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। আজ হাটে আসার পরপরই বৃষ্টি শুরু হয়। কিছুক্ষণ বৃষ্টিতেই হাটের অবস্থা দেখতেই পাচ্ছেন। কাদার কারণে ভেতরে ঢোকা যাচ্ছে না। জুতা-কাপড় নষ্ট হয়ে একাকার অবস্থা।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিবছর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে হাটে আসি। এবার বৃষ্টির কারণে তাদের বাসায় রেখে এসেছি। তবে ভিডিও কলে তাদের গরু দেখাচ্ছি।”

গাফফার খান জানান, এখনই গরু কিনে রাখার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না তিনি। তার ভাষায়, “যে বৃষ্টি, গরু নিয়ে রাখব কোথায়? এজন্য চাঁদরাতের দিন গরু কিনব। এখন শুধু হাট ঘুরে গরু দেখছি। বৃষ্টি না থাকলে এক-দুই দিন আগে কিনতাম। কারণ তখন গরু রাখতে কোনো সমস্যা হতো না। এখন অনেক সমস্যায় পড়তে হবে।”

ক্রেতাদের একটি বড় অংশ শেষ মুহূর্তে কেনাকাটার পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অনেকের ধারণা, ঈদের এক-দুই দিন আগে গরুর দাম কিছুটা কমে আসতে পারে। ফলে এখনো বাজারে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার চাপ তৈরি হয়নি।

হাট ইজারাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে পশুর হাট ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি থামার সঙ্গে সঙ্গে পানি সরানো ও কাদা পরিষ্কারের কাজ শুরু করা হবে। কোথাও কোথাও কাদা কমাতে বালু ফেলা হচ্ছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা জানান, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভোগান্তি কমাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পশুর হাটগুলোতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে কোনো পশু যাতে অসুস্থ হয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে শেষ সময়ের পশুর হাটগুলোতে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বছর দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। এর বিপরীতে দেশে প্রাপ্যতা রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি পশু। সেই হিসাবে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে রয়েছে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু-মহিষ, ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি ছাগল-ভেড়া এবং ৫ হাজার ৬৫৫টি অন্যান্য প্রজাতির প্রাণী।

এদিকে সরকার এ বছর গরুর কাঁচা চামড়ার দাম ঢাকার ভেতরে প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করেছে। গত বছরের তুলনায় ঢাকায় প্রতি বর্গফুটে গড়ে ২ টাকা এবং ঢাকার বাইরে একই পরিমাণ দাম বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর এ দাম ছিল যথাক্রমে ২২ থেকে ২৭ টাকা এবং ২০ থেকে ২২ টাকা।